## Thursday

### Revelation of Psychohistorical Mathematics by Hatashe, Dissertation I

Hatashe the Informal Mathematician to the all Mathematicians and Physicists belongs to the entire world. The Mathematics about Psychohistory, the term Psychohistory popularized by Isaac Asimov in his Foundation Series and actually the idea developed by United States Founding Father's team which was lead by George Washington. Psychohistory is a branch of science that could predict the general course of future flow. First I would like to give special thanks to three books and its authors; the Republic by Plato, Foundation by Asimov and Audacity by Obama. The three books were helpful to understand the Psychohistorical Literacy. I am still trying to give its Psychohistorical Mathematics shape. Calculus was established by Newton and Leibnitz and today it is enough mature but the Psychohistory is a new born mathematics, not reached to such stage yet that could predict the future. I will not discuss here the literacy pose of psychohistory because already I stated lot of literacy description in my previous book 'Prime Radiant device Obama: Maliatashe's Hypothesis and the Principle Mathematics of Applied Psychohistory.' So, directly I will point out here mathematical definitions and Psychohistorical Mathematics that one day will come when psychohistory will be reached to such stage that can able to predict the future.

Let, T and S is the two Grids of Psychohistorical Revelation. Wherever 'T' stands for 'Time' and 'S' stands for 'Situation'.  So, T is the Revelation of P, as well S is the Revelation of P, and T & S both is the coordinates of P. Now, if r the grid of T will be saturated to the b the grid of S, so r will be the feature equation of b.  Wherever, r stands for Speaker Red and b stands for Obama Black. As well the same formula will applicable for Deviation Blue (bl), Notation Green (g), Projection Purple (p), White House (h), and Red Square Kremlin (rk).
So, the above equation's primary outline will be like þ(r) = X+Y+280

280 G.E. (G.E. Stands for George Era or Galactic Era, equivalent to 2012 C.E.)

As well þ(b), þ(bl), þ(g), þ(p), þ(h), þ(rk) will be same.

From Hatashe's 2nd Law which is Equation of Section 42R254,
S = 8.943518519, Where, 'S' is a Constant of Seldon plan or Seldon Constant.

If F= b, þ, bl, g, p, rk

So, þ(Ft) will be truth for any color equations of b, þ, bl, g, p, rk and for it's any values.

Dear Scientists, as per your response and valuable suggestions, I hope I will able to define a general course of past, present and future in the next paper, through mathematical equations along with the Maclaurin's Theorem. Maclaurin's Theorem states that the theorem giving conditions when a function, which is infinitely differentiable, may be represented in a neighborhood of the origin as an infinite series with nth term (1/n!) · ƒ(n)(0) · xn, where ƒ(n) denotes the nth derivative.

Maclaurin's theorem is a specific form of Taylor's theorem, or a Taylor's power series expansion, where c = 0 and is a series expansion of a function about zero. The basic form of Taylor's theorem is: n = 0 (f(n)(c)/n!)(x - c)n. When the appropriate substitutions are made Maclaurin's theorem is:

f (x) = f(0) + f'(0)x + f''(0)x2/2! + f(3)(0)x3/3! + ... f(n)(0)xn/n! +....

The Taylor's theorem provides a way of determining those values of x for which the Taylor series of a function f converges to f(x). I hope to get a response from you, Sir.

Note: Revelation of Psychohistorical Mathematics by Hatashe, Dissertation I First Published at modernghana.com

## Tuesday

### বিমস অডাসিটি

এক (০১).
ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. ডাক সু লি‘র অফিস। ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল বসুন্ধরা এলাকার দরিদ্র মানুষের সন্তানদের জন্য একটি স্কুল পরিচালনা করে থাকে, বীজতলা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বা সংক্ষেপে বীমস। তরুন এই স্কুলে যোগ দিয়েছে বেশ কয়েকমাস আগে। অনেক বছর আগে সে এই প্রতিষ্ঠান ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল উচ্চপদে চাকুরী করেছিল, স্কুলেও পড়িয়েছিল। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের সেই জৌলসপুর্ন অফিস, কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। তরুন যখন মি. লি এর অফিসে প্রবেশ করল তখন অফিস আওয়ার পেরিয়ে গেছে কিন্তু তখনো তিনি অফিসে বসে কাজ করছেন। তার নতুন অফিসে আগের মত জৌলস নেই, জনাকীর্ন ছোট অফিস। মি. লি বীমস এর বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এর সভাপতিও বটে।
পরিস্কার বাংলায় মি. ডাক সু লি বললেন; হ্যা। বলুন মি. তরুন, আমি আপনার জন্য কি করতে পারি?
তরুন বলল; স্যার আপনী তো জানেন স্কুলটি দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। স্কুল থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী চলে গেছে। স্কুলের পরিবেশেও এক ধরনের ভগ্ন অবস্থা ফুটে উঠছে।
-হ্যা, সে সর্ম্পকে আমি অবগত আছি। কিন্তু আপনাকে এটাও মনে রাখতে হবে এটা আপনাদেরও স্কুল। স্কুল কিভাবে চলবে সেটা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে। আমি যে কোন প্রকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
-স্যার স্কুলের শিক্ষার পরিবেশসহ সার্বিক বিষয়গুলি সংস্কারের জন্য বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন।
-আপনী আমার কাছে অর্থ চাইতে এসেছেন মি. তরুন? প্রশ্ন করলেন মি. লি।
-জ্বি স্যার।
-আপনার কি পরিমান অর্থের প্রয়োজন?
-স্যার প্রাথমিক পর্যায়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা হলে আমরা শিক্ষার পরিবেশ অনেক উন্নতি সাধন করতে পারব। স্কুলকে আগের স্তরে নেওয়া যেতে পারে।
-পঞ্চাশ হাজার টাকা! কিছুটা ভুরু কুচকে আবার প্রশ্ন করলেন মি.; পঞ্চাশ হাজার টাকা! আপনী ধার চাইছেন? কবে ফেরৎ দিতে পারবেন?
-স্যার ঠিক ধার চাইছি না। স্কুলের জন্য অনুদান।
-দেখুন মি. তারুন, ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর ফান্ডে বর্তমানে কোন টাকা নেই। কোরিয়াস্ত হেড অফিস বাংলাদেশে তাদের ডোনেশন কমিয়ে এনেছে। তাই চাইলেও এই মুহুর্তে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারছি না বলে দু:খিত।
-স্যার তাহলে ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল কি ধীরে ধীরে বিলুপ্তি পথে যাচ্ছে?
কিছুটা অবাক হয়ে মি. লি প্রশ্ন করলেন; ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল একটি আর্ন্তজাতিক সংস্থা পৃথিবীর বেশকিছু দেশে আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচারনা করে আসছি আর বীমস হচ্ছে তার খুবই ক্ষুদ্র একটি অংশ, কিন্তু আপনী কেন এমনটা ধারনা করছেন?
-স্যার সার্বিক পরিস্থিতিই সেটা প্রকাশ করছে এবং আমি এটা নিয়ে মাঝে মাঝে চিন্তা করি।
-আপনী চিন্তা করেন? যেন খুব মজা পেলেন ওয়েল ইন্টারন্যাশনার এর কান্ট্রি ডিরেক্টর; কি চিন্তা করেন?
তরুন বুঝতে পারল মি. তার জন্য চমৎকার প্রশ্নের একটি ফাদ তৈরী করেছেন। তরুন বলল; স্যার, এই স্কুল আমার জীবন, আমি এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
মি. লি. বললেন; আপনী স্বপ্ন দেখছেন মি. তরুন। এই স্কুল যখন প্রতিষ্ঠা হয় তখন কি পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল আপনার ধারনা আছে? যখন আপনাদের মীম ম্যাডাম স্কুলের দায়িত্বে ছিলেন তখন স্কুলটি ভালভাবেই চলছিল কিন্তু তিনি স্কুল ছেড়ে চলে আসছে বাধ্য হন কিন্তু ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল কখনো স্কুলের স্টাফদের বেতন ভাতা নিয়ে সমস্যা তৈরী করে নি। এর পরে অনেক ঘটনাবহুল সময় কেটে গেল। আস্তে আস্তে স্কুলে শিক্ষার পরিবেশে ভাঙ্গন ধরল। এখন এটাকে শুধু বীজতলা স্কুল বলা হয়। বিনাবেতনের যে স্কুল ছেড়ে ছাত্র-ছাত্রীরা চলে যায় সেটা কি শুধু স্কুলের সমস্যা। স্কুলের লাইব্রেরীতে বহু দামী-দামী দেশ বিদেশী বই ছিল, না ব্যবহারের কারনে আজ সেগুলির অধিকাংশই পোকায় খেয়ে ফেলেছে, বুক শেলফ পোকায় নষ্ট করে দিয়েছে অথচ বহু অর্থ খরচ করে এসব করা হয়েছিল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। -
-স্যার ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল কি স্কুলটি বন্ধ করে দেবার চিন্তা করছে?
-আপনার কি মনে হয়?
-আমি বিশ্বাস করি না স্কুলের কোন ডিরেক্টর এটা চাইতে পারেন।
-আপনী মি. লি কে চিনতে পারেন নি মি. তরুন। যে লোকগুলি চাইছে যে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যাক, ডাকসু লি তাদেরই একজন।
অবাক চোখে লি এর দিকে তাকাল তরুন।
মি. লি আবার বললেন; আপনী হয়তো ভাবছেন এ কোন ডাক সু লি? আমার ক্ষমতাবলে আমি যদি স্কুলটিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি তবে হয়তো স্কুলটি পুরোপুরিই বন্ধ করে দিতে হবে। যে দরিদ্র শিশুগুলি এখনো এই স্কুলের মাধ্যমে কিছুটা শিক্ষার আলো পাচ্ছে তাদের সেই সুযোগটাও বন্ধ হয়ে যাবে। আবার আপনী যে স্বপ্ন দেখতে চান, হয়তো স্কুলকে স্বাবলম্বী করার জন্য কিংবা বীজতলা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল- বীমস হবে স্কলাসটিকা, আইএসডি, কিংবা ম্যাপললিপ এর মতো। তাহলে স্কুলটি তো তার লক্ষ হতে সরে যাবে, সেটা হয়তো আর শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত দরিদ্র শিশুদের জন্য থাকবে না। কিন্তু এটা সত্যি যে ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল কিছু সমস্যার মধ্যে দিয়ে পথ চলছে।
-সে ক্ষেত্রে স্যার স্কুলটিকেও কি সেই প্রভাব পড়ছে না?
-আমি বুঝতে পেরেছি মি তরুন, আপনী স্কুলে আরো শিক্ষক নিয়োগসহ শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের আরো অধিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু পযার্প্ত তহবিল না থাকায় আপাতত সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া আমি একা কিছুই করতে পারি না, ওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এর আছে অনেক বড় একটা পরিচালনা পর্ষদ। প্রায় ব্যর্থ একটি প্রজেক্ট নিয়ে অতি উৎসাহের কারনে বোর্ডের সামনে আমাকে বহু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যার অধিকাংশর উত্তরই আমার জানা নেই। মি. লি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
তরুন বলল; স্যার আমি যদি নতুন কোন ফান্ডের ব্যবস্থা করতে পারি।
খুব ক্লান্ত বোধ করলেন লি; আপনী এই স্কুলের জন্য ফান্ড নিয়ে আসবেন? মনে হয় না আপনী পারবেন।
-চেষ্টা করে দেখব স্যার? উৎসাহের সহিত বলল সে।
-ঠিক আছে আগে ফান্ড নিয়ে আসুন তারপর ভেবে দেখব।
-বারাক ওবামার বই অডাসিটি অফ হোপ বই থেকে অডাসিটি কনসেপ্টটি আমরা নিতে পারি স্যার। বীমস অডাসিটি। ইউনিভার্সিটি-অডাসিটি কনসেপ্টটা এভাবে চিন্তা করা যেতে পারে। শিক্ষার নতুন ধারনার প্রবর্তন। যেমন ও’লেভেল এবং এ’লেভেল সিলেবাস কিংবা বার-এট-ল এর ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কিছু শিক্ষা পদ্ধতি আছে যা ইংল্যান্ড থেকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে বা তাদের পদ্ধতি অনুসরন করা হয়। কিংবা ড. ইউনুসের গ্রামীন ব্যাংক কনসেপ্টটি আজ যেভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সেভাবে অডাসিটি ধারনাটিকে আমরা কাজে লাগাতে পারি, শিশুদের জন্য ইউনিভার্সিটি মান সম্পন্ন শিক্ষা- অডাসিটি।

দুই (০২).
তরুনের শয্যার পাশে বসে আছে মি. ডাক সু লি। মি. লি এর বয়স সত্তর ছাড়িয়েছে আর তরুনের বয়স চল্লিশ। তরুনের অবস্থা আশংকাজনক, যে কোন সময় মারা যেতে পারে। সে চাইলেও আর মৃত্যু ঠেকাতে পারবে না। পুরোপুরি নি:শেষ হয়ে গেছে। ক্যান্সার তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে গেছে।
-এখনো বেচে আছি স্যার। বলল তরুন।
প্রচন্ড শোক নিয়ে মি. লি বললেন; তুমি কেন এমনটা করলে তরুন। সিগারেট খাওয়াটা বন্ধ করলে তো আরো অনেক বছর বেশী বাচতে। কেন নিজেকে নি:শেষ করে দিলে?
তরুন বলল; ওই সিগারেটটাই তো আমাকে একাকী জীবনে কাজ করার প্রেরনা দিয়েছে।
-কিন্তু আমিও তো কাজ করেছি। স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে আমার জীবনের অধিকাংশ সময় আমি এর পিছনে ব্যয় করেছি।
-কিন্তু স্যার আমি না থাকলে বিমস অডাসিটি কখনোই হত না। কিন্তু আপনীও তো আমার মতো একা হয়ে যাচ্ছেন।
মি. লি এর মনে পড়ল; সত্যিই তিনি তো একা। কাছের মানুষ বলতে একজনই ছিল- তরুন। তার স্ত্রী মারা গেছে বেশ কিছু বছর আগে, তার দুই বাহুর উপরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল। সন্তানরাও অনেক দুরে। চাইলেই দেখতে পারেন ‍না।
তরুন বিড়বিড় করে বলল; স্যার একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন? বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কেমন যেন মুল্যহীন হয়ে যাচ্ছে, এখন কেউ আর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগ্রহ দেখায় না। উচ্চ শিক্ষার স্থান দখল করে নিয়েছে ইনিস্টিটিউট আর কলেজগুলি। এবং এই ইনিস্টিটিউট কিংবা কলেজের অধীনে ইউনিভার্সিটিগুলি তাদের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্যার এটাকে কি অডাসিটি ইফেক্ট বলা যেতে পারে।
-তরুন। চোখ বন্ধ করলেন মি. লি। আমার মৃত্যুর পরে তুমি এর দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলে তরুন।
-কিন্তু আমি মারা যাচ্ছি স্যার। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর অডাসিটির কি হবে কিছু ভেবেছেন?
-আমি এই ব্যাপারে তোমার সাথে কথা বলতে চাই তরুন। শিশু-কিশোর শিক্ষা ব্যবস্থায় যে বিপ্লব এসেছে তুমি নিজেই সেটা দেখে যেতে পারছ। ইউনিভার্সিটি এডুকেশন সিস্টেম যে ভেঙ্গে যাচ্ছে তা অডাসিটি সাফল্যের প্রমান।
-কিন্তু স্যার অডাসিটির পরে ধাপগুলিতো ইউনিভার্সিটি। ইউনিভার্সিটি এডুকেশন সিস্টেম ভেঙ্গে যাওয়া যদিও অডাসিটি সাফল্যের প্রমান কিন্তু সেটা কিভাবে পুরন হবে কিংবা উচ্চশিক্ষায় ব্যঘাত ঘটবে না সেটাও নিশ্চিত রাখতে হবে তা না হলে অডাসিটি ব্যর্থ হবে। ইনিস্টিটিউটগুলিকে স্থান করে দিতে হবে উচ্চশিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষনার রাজপ্রাসাদ হিসেবে।
এটাই ছিল তরুনের শেষ বাক্য।
মি. ডাক সু লি উপলব্ধি করলেন একে একে সবাই তাকে একা করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। মীম, ইউসুফ..... আজকে তরুন। তার পুরোনো কোন সহকর্মীই আজ তার কাছে নেই যাদের নিয়ে তিনি এই কাজ শুরু করেছিলেন।

তিন .
অতএব বারাক ওবামার অডাসিটি অফ হোপ এবং বিমস অডাসিটির খবর ছড়িয়ে পড়ল দুর-দুরান্তে, ইরাক, আফগানিস্তান, ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং সুদুর রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতিটি দেশে। এমনি কি সেইসব দুর্গম এলাকায় যেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী পর্যন্ত যেতে সাহস করে না। গভীর সমুদ্রের জাহাজগুলোর ডেকে বসে জাহাজের ক্যাপ্টেন ও অফিসাররা আলাপ করতে লাগল; প্রতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার উপরে মানুষের আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে কেন? নিউজ অফ দ্যা ওয়ার্ল্ডের মত শতশত বছরের ঐতিহ্যবাহী পৃথিবীর বহু ইউনির্ভাসিটি বন্ধ হয়ে গেছে। পৃথিবীর শিক্ষা ব্যবস্থা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে বোঝা মুশকিল। প্রফেসররা ইউনিভার্সিটির চাকুরী ছেড়ে দিচ্ছেন। আপ্রান চেষ্টা করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই স্বর্নালী সময়গুলি ফিরিয়ে আনতে পারছেন না কেউ। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতলভবনগুলি এখন পরিত্যাক্ত পড়ে আছে কিংবা সেখানে হয়েছে শহুরে ছেলে-মেয়েদের খেলার মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয় ভবনগুলি হয়েছে মিউজিয়াম নতুবা সুভ্যেনির শপ। মানুষ এখন সেখানে পড়তে যায় না, যায় দর্শনার্থী হিসেবে কিংবা কেনাকাটা করতে নতুবা খেলাধুলা দেখতে।
কালের সাক্ষী হাভার্ড ইউনিভাসির্টির মার্ভেলাস বহুতল ভবনগুলি, সুবিশাল মাঠ, পার্ক, বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি অফিসগুলি। এক সময় এই ইউনিভাসির্টি পুরো পৃথিবীর শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রন করেছিল, ছিল বৈজ্ঞানিক গবেষনার অন্যতম পীঠস্থান। এটা ছিল পৃথিবীর এক নম্বর ইউনিভাসির্টি। পৃথিবীর প্রায় সবগুলি বিশ্ববিদ্যালয় এই হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা বোঝার চেষ্টা করতো, তাদের অনুকরন করতে চাইত। কিন্তু এখন এখানে কোন ছাত্র-ছাত্রী কিংবা শিক্ষক নেই, ফাকা পড়ে আছে সবকিছু। সময়ের কা
ছে সবকিছু হেরে গেছে। হাভার্ড ইউনিভাসির্টি এখন শুধু মাত্র প্রেমিক-প্রেমিকাদের অবসর সময় কাটনোর উপযুক্ত স্থান এবং মমতাজ মহলের মত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের একটি।

## Monday

### সানডে লেকচার অফ বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ (১২ মে ২০১৩ ইং)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। আজ বিশ্ব মা দিবসে সবাইকে খ্রিস্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ তিনি এক সপ্তাহ পরে আবার আমাদের সবাইকে একসাথে মিলিত হবার সুযোগ দিয়েছেন, আমাদের সুস্থ রেখেছেন। আদি পুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের আটাশ পদে বলা হয়েছে; ইশ্বর তাদের আর্শীবাদ করে বললেন, তোমরা বংশবৃদ্ধির ক্ষমতায় পুর্ন হও আর নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে পৃথিবী ভরে তোল এবং পৃথিবীকে নিজেদের শাসনের অধীনে আন। এছাড়া তোমরা সমুদ্রের মাছ, আকাশের পাখী এবং মাটির উপরে ঘুরে বেড়ানো প্রতিটি প্রানীর উপরে রাজত্ব কর। আদি পুস্তকের তৃতীয় অধ্যায়ের বিশ পদে বলা হয়েছে; আদম তার স্ত্রীর নাম দিলেন হবা (যার মানে জীবন) কারন তিনি সমস্ত জীবিত লোকদের মা হবেন। আজ বিশ্ব মা দিবস কিন্তু আমরা কতটুকু মায়ের প্রতি দায়িত্বগুলি পালন করি? পশ্চিমা সংস্কৃতি যদিও এখনো আমাদের মাঝে সেভাবে আসে নি, আমরা চেষ্টা করি মায়েদের নিজের কাছেই রাখার জন্য কিন্তু অনেকে আছেন যারা শহরে চাকরি করেন, ভাল বাসায় থাকেন কিন্তু বৃদ্ধ মা’কে রাখার জন্য একটুখানি জায়গা তার বাসায় হয় না। রাশিয়ান লেখক ইভানের একটি বই থেকে আমি কিছু ঘটনা টানছি, জানি না ঘটনাটা সত্যি কিনা। বাংলাদেশের ইমদাদুল হক মিলনও এমন একটি একটি লেখা লিখেছিলেন। ঘটনাটা এমন; এক মা তার সন্তানকে খুবই ভালবাসত। এতটাই ভালবাসত যে, ছেলেটা যখন ছোট সে কখনো সন্তানকে মাটিতে রাখেনি যদি পিপড়ায় তাকে কামড়ায়, মাথার উপরে রাখেননি যদি মাথার উকুনু তাকে কামড়ায়। খুব আদর যত্ন করে তাকে বড় করে তুলল। একদিন সেই ছেলে বড় হয়ে এক মেয়ের প্রেমে পড়ল। মেয়েটি প্রথমে তাকে পাত্তা দিত না কিন্তু অনেক চেষ্টার পরে মেয়েটি রাজী হল এবং বলল; তুমি তো তোমার মা’কে খুব ভালবাস, কিন্তু আমাকে কতটা ভালবাস সেই পরীক্ষা তোমাকে দিতে হবে। তোমার মায়ের হ্দপিন্ড আমাকে এনে দিতে হবে। ছেলেটি মেয়েটিকে বলল; আমার মা আমাকে খুব ভালবাসে, তিনি আমার জন্য সবকিছু করতে পারেন। আমি মাকে গিয়ে বলে দেখি। তিনি কি বলেন। যথারীতি ছেলেটি বাসায় গিয়ে তার মাকে বলল। উত্তরে ছেলেটির মা তাকে বলল; আমার ছেলে আমার জীবন, আমার হৃদয়। আমার জীবন আমার কাছে জীবন চেয়েছে আমি দেব না তা কি হয়? ঠিক আছে তুমি আমাকে হত্যা করে আমার হৃদপিন্ড নিয়ে তোমার প্রেমিকাকে দাও। ছেলেটি মাকে হত্যা করে মায়ের হৃদপিন্ড নিয়ে রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছিল হঠাৎ সে হোচট খেয়ে রাস্তায় পড়ে যায়, তার হাত থেকে হৃদপিন্ডটা ছিটকে পড়ে যায়। ছেলেটি শুনতে পায় তার মা তাকে বলছে; ব্যাথা পেয়েছিস বাবা? প্রকৃতপক্ষে এই গল্পটা দ্বারা মায়ের ভালবাসার প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের মা আমাদের কাছে কতটা মুল্যবান অনেক সময় আমরা সেটা বুঝতে পারি না। প্রথম রাজাবলি তৃতীয় অধ্যায়ে মায়ের ভালবাসার একটি দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। দুজন বেশ্যা স্ত্রীলোক একই গৃহে থাকত এবং তাদের দুটি ছেলে সন্তান হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে এক রাতে একজনের সন্তানটি মারা গেলে সে রাতের আধারে তার মৃত বাচ্চাকে অন্য মায়ের কোলে রেখে জীবিত বাচ্চাটি চুরি করে আনল কিন্তু প্রকৃত মা বাদশা সোলায়মানের কাছে বিচার দিল তার ছেলেকে ফিরিয়ে দেবার জন্য। বাদশা সোলায়মান বললেন; দুজনেই যেহেতু ছেরেটির মাতৃত্বের দাবী করছে, ঠিক আছে আমি ছেলেটিকে কেটে দু‘টুকরো করে দুজনকে দিব। তিনি সন্তানটিকে কাটার জন্য যখন তলোয়ার তুলেছেন তখন প্রকৃত মা বলল; ঠিক আছে আমার ছেলের প্রয়োজন নেই, আপনী ছেলেটিকে ওই মহিলার কোলেই দিয়ে দিন তবুও তো আমার সন্তান বেচে থাকুক। বাদশা সোলায়মান বললেন; ছেলেটিকে এই মায়ের কাছে ফিরিয়ে দাও কারন এই মহিলাটিই তার প্রকৃত মা। ইপিষীয় ছয় অধ্যায়ের প্রথম তিন পদে বলা হয়েছে; ছেলে মেয়েরা, প্রভু যেভাবে চান সেইভাবে তোমরা মা-বাবার বাধ্য হয়ে চল, কারন সেটাই হওয়া উচিত। পবিত্র শাস্ত্রে প্রথম যে আদমের সাথে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছে তা এই- তোমার মা বাবাকে সম্মান কর যেন তার মংগল হয় এবং তুমি অনেকদিন পর্যন্ত পৃথিবীতে বেচে থাকতে পারবে। ছোটবেলায় আমি বেশী করে ঠাকুর’মার কাছে কাছে থাকতাম, তিনি একদিন আমাকে একটি সত্য ঘটনা বলেছিলেন, আর সেটা হল এমন যে একলোকের বৃদ্ধ মা মারা যাবার পরে তিনি মায়ের সমাধির উপরে অনেক টাকা খরচ করে বিশাকৃতির একটি মঠ নির্মান করে বললেন; আমার মায়ের যত ঋন, মায়ের দুধের ঋন আজ আমি শোধ করে দিলাম। ঠাকুরমা আমাকে বললেন; কিছুদিন পরে সেই বিশাল মঠটি একধারে হেলে পড়ল। মায়ের একফোটা দুধের দাম কি কখনো শোধ করা যায়? তাইতো ফকির আলমগীর গেয়েছেন; মায়ের একফোটা দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম-পাপস বানাইয়া দিলেও শোধ হবে না। মায়ের দোয়া, মায়ের আর্শীবাদ হচ্ছে সন্তানের জন্য জীবন। হিতোপদেশ তৃতীয় অধ্যায়ের বাইশ পদে বলা হয়েছে; তোমার জন্য তা হবে জীবন, তোমার গলার জন্য তা হবে সুন্দর হারের মত। বৃদ্ধ মা বাবাকে ভালবাসতে হবে, তাদের প্রাপ্য সম্মান তাদের দিতে হবে। মা বাবা বৃদ্ধ হয়ে গেলে অনেক সন্তানরা তাদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে। মায়ের প্রতি ছোটবেলার মত সেই আদর, ভালবাসা আর সম্মানবোধ থাকে না। লেবীয় পুস্তকের উনিশ অধ্যায়ের বত্রিশ পদে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সম্মানের ব্যপারে বলা হয়েছে; যারা বৃদ্ধ তারা কাছে আসলে উঠে দাড়াতে হবে এবং তাদের সম্মান করতে হবে। তোমরা তোমাদের ইশ্বরকে ভক্তিপুর্ন ভয় করবে। আমি সদাপ্রভু। আমাদের সবাইকে খেয়াল হবে নিয়মিত কর্মব্যাস্ততার মাঝেও আমরা যেন আমাদের বৃদ্ধ মা বাবার প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্যগুলি ভুলে না যাই। আজ বিশ্ব মা দিবসে সবাইকে আবারও খ্রিষ্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আমেন।

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
১২ মে ২০১৩ ইং
স্পিকার: রেভারেন্ড সুশান্ত বৈরাগী
পালক, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ
সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট সংঘ।

### বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (৫ মে ২০১৩ ইং)

সকলকে ইম্মানুয়েল। ইশ্বরকে ধন্যবাদ তিনি আজকে আমাদের উপস্থিত সবাইকে তার মন্দিরে আসতে দিয়েছেন। যারা এখনো পথে আছে তারা যেন দ্রুত পৌছাতে পারে সেই প্রার্থনা করি, আর যারা আসতে পারছে না তারা যে ইশ্বরের অনুগ্রহ হতে বঞ্চিত হয়েছে তা বলব না কারন দেশের যে পরিস্থিতি আমরা সবাই তা অনুধাবন করতে পারছি। আমি লুক লিখিত সুসমাচারের চব্বিশ অধ্যায়ের তের থেকে পয়ত্রিশ পদ পর্যন্ত পড়ছি। সেখানে বলা হয়েছে; সেই দিনেই দু’জন শিষ্য ইম্মায়ূ নামে একটা গ্রামে যাচ্ছিলেন। গ্রামটা যিরূশালেম থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে ছিল। যা ঘটেছে তা নিয়ে তাঁরা আলাপ-আলোচনা করছিলেন। সেই সময় যীশু নিজেই সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সংগে হাঁটতে আরম্ভ করলেন। তাঁদের চোখ যেন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন না। তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কি কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন?” সেই দু’জন শিষ্য ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন। তখন ক্লিয়পা নামে তাঁদের মধ্যে একজন যীশুকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপনিই কি যিরূশালেমের একমাত্র লোক যিনি জানেন না এই কয়দিনে সেখানে কি কি ঘটছে?” যীশু তাঁদের বললেন, “কি কি ঘটেছে?” তাঁরা বললেন, “নাসরত গ্রামের যীশুকে নিয়ে যা যা ঘটেছে। তিনি নবী ছিলেন। তিনি কাজে ও কথায় ঈশ্বর ও সমস্ত লোকের চোখে শক্তিশালী ছিলেন। আমাদের প্রধান পুরোহিতেরা ও ধর্ম-নেতারা তাঁকে রোমীয়দের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলেন যাতে তারা তাঁর বিচার করে তাকে মৃত্যুর শাস্তি দেয়। পরে সেই যিহূদী নেতারা তাঁকে ক্রুশে দিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম তিনিই ইস্রায়েল জাতিকে মুক্ত করবেন। কেবল তা-ই নয়, আজ তিন দিন হল এই সব ঘটনা ঘটেছে। আবার আমাদের দলের কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করেছেন। তাঁরা খুব সকালে যীশুর কবরে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর দেহ দেখতে পান নি। তাঁরা ফিরে এসে বললেন, তাঁরা স্বর্গদূতদের দেখা পেয়েছেন আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন যে, যীশু বেঁচে আছেন। তখন আমাদের সংগে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কবরে গিয়ে স্ত্রীলোকেরা যেমন বলেছিলেন ঠিক তেমনি দেখতে পেলেন, কিন্তু যীশুকে দেখতে পেলেন না।” তখন যীশু তাঁদের বললেন, “আপনারা কিছুই বোঝেন না। আপনাদের মন এমন অসাড় যে, নবীরা যা বলেছেন তা আপনারা বিশ্বাস করেন না। এই সমস্ত কষ্ট ভোগ করে কি মশীহের মহিমা লাভ করবার কথা ছিল না?” এর পরে তিনি মোশির এবং সমস্ত নবীদের লেখা থেকে আরম্ভ করে গোটা পবিত্র শাস্ত্রের মধ্যে তাঁর নিজের বিষয়ে যা যা লেখা আছে তা সবই তাঁদের বুঝিয়ে বললেন। তাঁরা যে গ্রামে যাচ্ছিলেন সেই গ্রামের কাছাকাছি আসলে পর যীশু আরও দূরে যাবার ভাব দেখালেন। তখন তাঁরা খুব সাধাসাধি করে তাঁকে বললেন, “এখন বেলা গেছে, সন্ধ্যা হয়েছে। আপনি আমাদের সংগে থাকুন।” এতে তিনি তাঁদের সংগে থাকবার জন্য ঘরে ঢুকলেন। যখন তিনি তাঁদের সংগে খেতে বসলেন তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন এবং তা টুকরা করে তাঁদের দিলেন। তখন তাঁদের চোখ খুলে গেল; তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, কিন্তু তার সংগে সংগেই তাঁকে আর দেখা গেল না। তখন তাঁরা একে অন্যকে বললেন, “রাস্তায় যখন তিনি আমাদের সংগে কথা বলছিলেন এবং পবিত্র শাস্ত্র বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তখন আমাদের অন্তর কি জ্বলে জ্বলে উঠছিল না?” তখনই সেই দু’জন উঠে যিরূশালেমে গেলেন এবং সেই এগারোজন শিষ্য ও তাঁদের সংগে অন্যদেরও এক জায়গায় দেখতে পেলেন। প্রভু যে সত্যিই জীবিত হয়ে উঠেছেন এবং শিমোনকে দেখা দিয়েছেন তা নিয়ে তখন তাঁরা আলোচনা করছিলেন। সেই দু’জন শিষ্য রাস্তায় যা হয়েছিল তা তাঁদের জানালেন। তাঁরা আরও জানালেন, তিনি যখন রুটি টুকরা টুকরা করছিলেন তখন কেমন করে তাঁরা তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন।
যীশু খ্রিষ্টের পুনুরুত্থান থেকে স্বর্গে আহরোন পর্যন্ত যীশু খ্রিষ্ট চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই জাগতিক পৃথিবীতে অবস্থান করে তার শিষ্যদের সাথে বহুবার সাক্ষাৎ করেছিলেন। শিষ্যদের দেখা দিয়ে তিনি তাদের সাহস যুগিয়েছেন, প্রেরনা যুগিয়েছেন কারন তিনি তাদের বলেছিলেন তোমরা এই সুসংবাদ দুনিয়ার শেষ সীমা পর্যন্ত প্রচার কর, দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টিজগতের কাছে যাও এই এই সুসংবাদ প্রচার কর। অনেকে দুর্বল বিশ্বাসের কারনে যীশু খ্রিষ্টের পুনুরুত্থান বিশ্বাস করতে চাইছিল না কারন যারা তাকে প্রভু বলে মান্য করত, রাজাধিরাজ খেতাবে ভুষিত করেছিল তাদের চোখের সামনে যীশুখ্রিস্টের ক্রশে মৃত্যুবরন তারা মানতে পারছিল না এবং তার এইভাবে মৃত্যুবরনের পর যে তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন সেটা তারা জানত কিন্তু চোখে না দেখা পর্যন্ত তাদের অনেকে বিশ্বাস করতে চাইছিল না কারন যীশু খ্রিস্টের মৃত্যুর পর তারা ভক্তকুল বিভিন্নভাবে ইহুদিদের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছিল। তাই যীশুখ্রিস্ট আবার তার ভক্তদের মাঝে ফিরে আসলেন। এই অধ্যায়ে ক্লিয়পা নামে যে ব্যাক্তির কথা বলা হয়েছে তিনিও যীশুখ্রিস্টের অন্যতম একজন শিষ্য ছিলেন যদিও তিনি প্রধান বারজন শিষ্যের কেউ ছিলেন না কিন্তু ক্লিয়পা তাদের সাথেই থাকতেন। ক্লিয়পা তার স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে জেরুজলেম ছেড়ে ইয়াম্মু গ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন কারন যীশুখ্রিস্ট নেই তাই তারা সেখানে থাকার সাহস, প্রেরনা বা কারন খুজে পাচ্ছিলেন না। তখন বিকেল গড়িয়ে ক্রমশ সন্ধ্যে হচ্ছিল। সুর্যের আলোয় আলোকিত দিনের আলোকে পিছনে ফেলে ক্রমশ সন্ধ্যের আধারের দিকে চলছেন দুই মুসাফির। আলো থেকে অন্ধকারের পথে চলছেন জীবন্ত বাক্যের দুই সাক্ষী ক্লিয়পা এবং তার সহধর্মীনি মরিয়ম। কিন্তু আধার ঘনিয়ে আসা ঘোর অন্ধকার পথে কে তাদের পথ দেখাবে আর কেই-বা তাদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনবে, কে তাদের একটু সাহস জোগাবে। ভারাক্লান্ত মনে, ভয়কাতুর মনে প্রিয় জেরুজালেম শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন যীশুখ্রিস্টের দুইজন শিষ্য। কিন্তু যীশুখ্রিস্ট যাকে তার সুসংবাদ প্রচারের জন্য নির্বাচিত করে রেখেছেন তাকে তিনি ব্যর্থ হতে দেবেন তা কি করে হয়? এই সেই শহর জেরুজালেম যে শহরের পাপী আর অবুঝ মানুষেরা নবীদের হত্যা করত, এই সেই শহর জেরুজালেম যে শহর একদিন যীশু খ্রিস্টের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছিল, হোসান্না-হোসান্না ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছিল জেরুজালেমের আকাশ বাতাস কারন প্রভু-রাজাধিরাজ যীশু খ্রিস্ট এই শহরে এসেছেন কিন্তু একদিন এই জেরুজালেম স্বয়ং প্রভুকেও হত্যা করল তাই এখানে থাকার আর কোন মানে হয় না। এটা যেন মৃত্যুপুরী, মৃ্ত্যুর করাল থাবা যেন সবাইকে গ্রাস করবে তাই ক্লিয়পা আর মরিয়ম এই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ইয়াম্মু গ্রামে। কিন্তু প্রভুর দেয়া জীবন ব্যবস্থাতো অন্ধকারের পথ নয় বরং আলোকিত পথ। অন্ধকারে ধাবমান পথে তারা হাটছিলেন আর প্রভু যীশু খ্রিস্টকে নিয়ে যা ঘটেছিল সেইসব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। তাদের ক্লান্ত পথের সংগী হলেন স্বয়ং যীশুখ্রিস্ট, তিনি উপস্থিত হয়ে তাদের সাথে হাটতে লাগলেন এবং একসময় তাদের আলোচনায় অংশ নিলেন। এবং যখন তারা যীশুখ্রিস্টের সাথে খেতে বসলেন এবং যীশুখ্রিস্ট রুটি টুকরো করে তাদের খেতে দিলেন তখন তারা প্রভু খ্রিস্টকে চিনতে পারল। পরক্ষনেই তিনি আবার অদৃশ্য হয়ে গেলেন এবং ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী আবার জেরুজালেমে ফিরে এসে যীশুখ্রিস্টের জীবিত হয়ে উঠবার বিষয়ে সাক্ষী দিতে লাগলেন। এভাবেই যীশুখ্রিস্ট অসংখ্যবার তার ভক্ত ও শিষ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছেন। ক্লিয়পার স্ত্রী যীশুখ্রিস্টের মৃত্যুর অন্যতম একজন সাক্ষী। যোহন উনিশ অধ্যায়ের পচিশ পদে বলা হয়েছে; যীশু খ্রিস্টের মা, তার মায়ের বোন, ক্লিয়পার স্ত্রী মরিয়ম আর মগদালীনি মরিয়ম যীশুর ক্রশের কাছে দাড়িয়ে ছিলেন। তাই ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী মরিয়মকে দেখা দেওয়া যীশুখ্রিস্ট প্রয়োজন মনে করেছিলেন কারন তাদের মাধ্যমে তিনি ইশ্বরের এই সুসংবাদ প্রচার করবেন আগেই ঠিক করেছিলেন। কিন্তু ক্লিয়পাকেও কেন তিনি দেখা দিলেন, লুক চব্বিশ অধ্যায়ের দশ ও এগারো পদ পড়লে সেটা আরো পরিস্কার হবে; সেই স্ত্রী লোকদের মধ্যে ছিলেন মগদলীনি মরিয়ম, যোহানা ও ইয়াকুবের মা মরিয়ম। তাদের সংগে আর অন্য যে স্ত্রী লোকেরা ছিলেন তারাও এই সমস্ত কথা প্রেরিতগনকে বললেন। কিন্তু সেইসব কথা তাদের কাছে বাজে কথার্ মতই মনে হল। সেই জন্য স্ত্রীলোকদের কথা তারা বিশ্বাস করলেন না। তাই মরিয়মের মাঝে যীশুখ্রিস্ট এমন সময় দেখা দিলেন যখন তার সাথে তার স্বামী ক্লিয়পাও ছিলেন। যেন মরিয়মের মুখের কথা আরো জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য হয়। এভাবে যীশুখ্রিস্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে তার শিষ্যদের সাথে চল্লিশদিন পর্যন্ত সাক্ষাত করেছেন। তাদের অন্তরে ভালবাসা বৃদ্ধি করেছেন, প্রেরনা দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন যেন তারা দুনিয়ার সকল প্রান্তে গিয়ে সকল জাতির কাছে এই সুসংবাদ প্রচার করে। এভাবেই ক্লিয়পা ও তার স্ত্রী মরিয়ম প্রভু যীশু খ্রিস্টের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ইশ্বরের রাজ্যের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। আমিন।
হে আমাদের স্বগীর্য় পিতা, তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক। তোমার রাজ্য আসুক। তোমার ইচ্ছা যেমন বেহেশতে তেমনি দুনিয়াতেও পুর্ন হোক।  যে খাবার আমাদের দরকার তা আজ আমাদের দাও।  যারা আমাদের উপর অন্যায় করে, আমরা যেমন তাদের মাফ করেছি তেমনি তুমিও আমাদের সমস্ত অন্যায় মাফ কর।  আমাদের তুমি পরীক্ষায় পড়তে দিয়ো না,  বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর। এই মুনাজাত আমাদের স্বর্গীয় পিতা যীশুখ্রিস্টের নামে চাই।  আমিন।

স্পিকার: রেভারেন্ড জেমস অজিত কর্মকার
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
৫ মে ২০১৩ ইং

## Thursday

### স্বরাষ্টমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ত্বত্তের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

গুরুত্বপুর্ন কোন ব্যাক্তি যদি কোন দাবি তুলে থাকেন তবে আপাত দৃষ্টিতে সেটা যদি বোকামী কিংবা গুরুত্বহীনও মনে হয় তবুও সেটাকে অবহেলা করা ঠিক নয় কারন তিনি বলেন তার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা এবং অন্তদৃষ্টির মাধ্যমে। স্বরাষ্টমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর দাবি করেছেন সাভারেরর রানা প্লাজা ধ্বসের পিছনে কিছু লোকের ভবনটির কলাপ্সিবল গেট কিম্বা কলাম বা দেয়াল ধরে ধাক্কাধাক্কি একটি কারন হতে পারে। আসুন তার ত্বত্তের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া যাক। আসলে নতুন একটা বিল্ডিংএর জন্য তার ত্বত্ত কতটা প্রযোজ্য।

আপনাকে যদি বলা হয়, আপনী কি ছোট এক টুকরো প্লাটিনাম তুলতে পারবেন? তার জন্য যতজন লোকবল লাগে লাগুক কিন্তু শর্ত একটাই- তুলতে হবে খালি হাতে, তার জন্য যতজন লোকবল লাগে লাগুক কিন্তু কোন যান্ত্রিক কেৌশল ব্যবহার করা যাবে না।
উত্তর, হ্যা তোলা যাবে। স্বাভাবিক মধ্যাকর্ষনে এক কিউবিক মিটার প্লাটিনামের ওজন ২২৪২০ কিলোগ্রাম। ধরা যাক প্রতি ব্যাক্তি ১২০ কিলোগ্রাম ওজন তুলতে পারবে। তাহলে সর্বমোট ১৮৭ জন লোকের প্রয়োজন হবে। কিন্তু ১৮৭ জন লোক একসাথে এক কিউবিক মিটারের এক টুকরো প্লাটিনাম ধরতে পারবে না। খুব বেশী হলে নয় জন সেটাতে হাত দিতে পারবে। অথচ আগেই বলা হয়েছে কোন যান্ত্রিক কেৌশল ব্যবহার করা যাবে না, খালি হাতেই তুলতে হবে।

ঠিক এভাবে সাভারের রানা প্লাজার কলাপ্সিবল গেট কিম্বা কলাম বা দেয়াল ধরে ধাক্কাধাক্কি করে করে আটতলা বিল্ডিংটিতে ধ্বস নামাতে যতজন লোকবল প্রয়োজন ততজন মানুষ একসাথে ওই গেটে কিংবা কলাম বা দেয়ালে হাত লাগাতে পারবে না, বড়জোর দশ পনের জন মানুষ সেটা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করতে পারবে, অথচ রানা প্লাজা ভেঙ্গে পড়ার পেছনে কোন যান্ত্রিক কেৌশল ব্যবহার করা হয় নি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ত্রুটিপুর্ন নিমার্ন ও রক্ষনাবেক্ষনে অবহেলার জন্য রানা প্লাজা ভেঙ্গে প্রায় পাচশত লোকের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হয়।

## Monday

### বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (২৮ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

(১). কমনওয়েলথ অফ ম্যাসাচুসেট্‌স

হে সদাপ্রভু, আমি তোমার গৌরব করব, কারণ তুমিই আমাকে উঠিয়ে এনেছ; আমার শত্রুদের তুমি আমার বিরুদ্ধে আনন্দ করতে দাও নি। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, সাহায্যের জন্য আমি তোমাকে ডেকেছিলাম আর তুমি আমাকে সুস্থ করে তুলেছ। হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে মৃতস্থান থেকে তুলে এনেছ; তুমিই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছ যেন সেই গর্তে আমাকে নেমে যেতে না হয়। হে সদাপ্রভুর ভক্তেরা, তোমরা তাঁর উদ্দেশে গান গাও, তাঁর পবিত্রতার গৌরব কর; কারণ তাঁর ক্রোধ বেশীক্ষণ থাকে না; তাঁর দয়ায় জীবন পাওয়া যায়। কেবল রাতটুকু কাটে কানড়বায়, কিন্তু ভোর বেলাতেই আসে আনন্দ। সুখের দিনে আমি বলেছিলাম, কেউ আমাকে নাড়াতে পারবে না। হে সদাপ্রভু, তুমি দয়া দিয়ে আমার রাজ্য অটল রেখেছ, কিন্তু যখন তুমি মুখ ফিরালে তখন আমি ভীষণ ভয় পেলাম। হে সদাপ্রভু, তোমাকেই আমি ডেকেছিলাম; আমার প্রভুর কাছে আমি মিনতি করে বলেছিলাম,  “আমার মরণে কিম্বা মৃতস্থানে যাওয়াতে কি লাভ? ধুলা কি তোমার গৌরব করবে কিম্বা তোমার বিশ্বস্ততা প্রচার করবে? হে সদাপ্রভু, শোন, আমার প্রতি দয়া কর; হে সদাপ্রভু, তুমি আমাকে সাহায্য কর।” শোক প্রকাশের অনুষ্ঠান থেকে তুমি আমাকে নাচের উৎসবে এনেছ; শোকের চট খুলে নিয়ে তুমি আমাকে আনন্দের সাজ পরিয়েছ, যাতে আমার অন্তর নীরব না থাকে বরং তোমার উদ্দেশে গান করে। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, আমি চিরকাল তোমাকে ধন্যবাদ দেব। -(গীতসংহিতা ৩০:১-১২)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। জয় যীশু। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে এখানে আবার প্রচার করার সুযোগ দিয়েছেন। দীর্ঘ তের বছর পর আমি আবার এই চার্চে প্রচার করছি। তের বছর আগে আমি এই চার্চের পালক ছিলাম। অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছি। আমি থাকি আমেরিকার বোস্টনের ম্যাসাচুসেটস শহরে। বোস্টন শহর যেখানে কিছুদিন আগে বোমা ফাটল সেখান থেকে আমার বাসা মাত্র পাচ কিলোমিটার দুরে। ইন্টারন্যাশনাল চার্চ কমিটিতে আমি কাজ করি। আমরা মুলত এশিয়ানদের মধ্যে প্রচার করে থাকি। যাই হোক আমি মুলত আজকে প্রচার করতে আসি নি, অনেকদিন পর বাংলাদেশে এলাম তাই কিছু কথা বলার জন্য স্টেজে এসেছি। আমি যিশাইয়া চুয়ান্ন অধ্যায়ের দ্বিতীয় পদ পাঠ করছি; তোমার তাম্বুর জায়গা আরো বাড়াও, তোমার তাম্বুর পর্দা আরো চওড়া করো, কৃপনতা করো না। তোমার তাম্বুর দড়িগুলি লম্বা কর আর গোজাগুলি শক্ত কর। যীশু খ্রিষ্টের প্রায় তিন হাজার বছর আগে যিশাইয়া নবী এসেছিলেন। আমরা সবাই জানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিষ্টান দেশ কিন্তু আমি যখন সেখানে গেলাম দেখলাম আগের আমেরিকা এখন আর নেই। সেটা এখন পরিনত হয়েছে সেক্যুলার রাষ্ট্রে। আমিরিকায় একমাত্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাই প্রায় নিয়মিত গির্জায় যায়। আমি যেখানে থাকি সেই বোষ্টন শহর- এক সময় সেটা ছিল আমেরিকার খ্রিষ্টান বিশ্বসীদের হার্ট কিন্তু এখন সেখানে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ধর্মকর্ম পালন করে। আমেরিকায় এখন আট মিলিয়ন মুসলিম জনগোষ্ঠি রয়েছে, হিন্দু রয়েছে প্রায় সাত মিলিয়ন আর বৌদ্ধ বিশ্বাসীদের সংখ্যা প্রায় পাচ মিলিয়ন। আর ইসলাম ধর্ম হচ্ছে সেখানে সবচেয়ে বেশী সম্পসারিত ধর্ম। বোষ্টনে ছোট-বড় প্রায় ত্রিশটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রায় পচাত্তর হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করছে। কিন্তু খ্রিষ্টান বিশ্বাসী ছাত্রদের মাঝে ধর্ম-কর্ম পালনের আগ্রহ দেখা যায় না। ম্যাসাচুসেটস শহরে পৃথিবীর বিখ্যাত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাভার্ড ইউনিভাসিটি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থিওলজির উপরে উচ্চতর শিক্ষা দেওয়া হয়, আমিও সেখানে ছাত্রদের পড়াই। কিন্তু আজকের আমেরিকা সেক্যুলার হয়ে গেছে। উইলিয়াম ক্যারি যখন এই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচারের জন্য আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তখন বাইবেল সোসাইটি তাকে তাচ্ছিল্য করেছিল; তুমি ওই দেশের ভাষা, কৃষ্টি-কালচার সর্ম্পকে কিছুই জান না, কিভাবে প্রচার করবে? তাকে মাত্র চৌদ্দ পাউন্ড দুই শিলিং অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই উপমহাদেশে বিশেষ করে বাংলা-ভাষাভাষী জনগোষ্টির মাঝে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারে তিনি অনেক অবদান রেখে গেছেন। আজকে আমরা যে বাইবেল বাংলা অনুবাদ পড়ছি সর্বপ্রথম তিনিই এটার অনুবাদ করেন। আমি অল্প কিছুদিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছি, দীর্ঘদিন পরে এই চার্চে এসে আমার অতীত দিনগুলির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে যখন আমি এখানের পালক ছিলাম। আমি আর একসপ্তাহ থাকব তারপর আবার চলে যাব আমেরিকা। সবাই আমার জন্য প্রার্থনা করবেন।

স্পিকার: রেভারেন্ড পৌল সুলিল বিশ্বাস
পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল চার্চ কমিটি

বোস্টন, কমনওয়েলথ অফ ম্যাসাচুসেট্‌স, ইউএসএ
শিক্ষক, হাভার্ড ডিভাইনিটি স্কুল, হাভার্ড ইউনিভার্সিটি।

(২). খ্রিস্টান কলেজ অফ থিওলজি বাংলাদেশ

সপ্তার প্রথম দিনের ভোর বেলায়, অন্ধকার থাকতেই মগ্‌দলীনী মরিয়ম সেই কবরের কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন, কবরের মুখ থেকে পাথরখানা সরানো হয়েছে। সেইজন্য তিনি শিমোন-পিতর আর যে শিষ্যকে যীশু ভালবাসতেন সেই শিষ্যের কাছে দৌড়ে গিয়ে বললেন, “লোকেরা প্রভুকে কবর থেকে নিয়ে গেছে। তাঁকে কোথায় রেখেছে আমরা তা জানি না।” পিতর আর সেই অন্য শিষ্যটি তখন বের হয়ে কবরের দিকে যেতে লাগলেন। দু’জন একসংগে দৌড়াচ্ছিলেন। অন্য শিষ্যটি পিতরের আগে আগে আরও তাড়াতাড়ি দৌড়ে প্রথমে কবরের কাছে আসলেন, কিন্তু তিনি কবরের ভিতরে গেলেন না। তিনি নীচু হয়ে দেখলেন, যীশুর দেহে যে কাপড়গুলো জড়ানো হয়েছিল সেগুলো পড়ে আছে। শিমোন-পিতরও তাঁর পিছনে পিছনে এসে কবরের ভিতরে ঢুকলেন এবং কাপড়গুলো পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি আরও দেখলেন, তাঁর মাথায় যে রুমালখানা জড়ানো ছিল তা অন্য কাপড়ের সংগে নেই, কিন্তু আলাদা করে এক জায়গায় গুটিয়ে রাখা হয়েছে। যে শিষ্য প্রথমে কবরের কাছে পৌঁছেছিলেন তিনিও তখন ভিতরে ঢুকলেন এবং দেখে বিশ্বাস করলেন। মৃত্যু থেকে যীশুর জীবিত হয়ে উঠবার যে দরকার আছে, পবিত্র শাস্ত্রের সেই কথা তাঁরা আগে বুঝতে পারেন নি। প্রভু যীশু মরিয়মকে দেখা দিলেন ।  এর পরে শিষ্যেরা ঘরে ফিরে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম কবরের বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে নীচু হয়ে কবরের ভিতরে চেয়ে দেখলেন, যীশুর দেহ যেখানে শোওয়ানো ছিল সেখানে সাদা কাপড় পরা দু’জন স্বর্গদূত বসে আছেন-একজন মাথার দিকে আর অন্যজন পায়ের দিকে। তাঁরা মরিয়মকে বললেন, “কাঁদছ কেন?” মরিয়ম তাঁদের বললেন, “লোকেরা আমার প্রভুকে নিয়ে গেছে এবং তাঁকে কোথায় রেখেছে জানি না।” এই কথা বলে মরিয়ম পিছনে ফিরে দেখলেন যীশু দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তিনি যে যীশু তা বুঝতে পারলেন না। যীশু তাঁকে বললেন, “কাঁদছ কেন? কাকে খুঁজছ?” যীশুকে বাগানের মালী ভেবে মরিয়ম বললেন, “দেখুন, আপনি যদি তাঁকে নিয়ে গিয়ে থাকেন তবে বলুন কোথায় রেখেছেন। আমিই তাঁকে নিয়ে যাব।” যীশু তাঁকে বললেন, “মরিয়ম।” তাতে মরিয়ম ফিরে দাঁড়িয়ে অরামীয় ভাষায় যীশুকে বললেন, “রব্বুনি।” রব্বুনি মানে গুরু। যীশু মরিয়মকে বললেন, “আমাকে ধরে রেখো না, কারণ আমি এখনও উপরে পিতার কাছে যাই নি। তুমি বরং ভাইদের কাছে গিয়ে বল, যিনি আমার ও তোমাদের পিতা, যিনি আমার ও তোমাদের ঈশ্বর, আমি উপরে তাঁর কাছে যাচ্ছি।” তখন মগ্‌দলীনী মরিয়ম শিষ্যদের কাছে গিয়ে সংবাদ দিলেন, তিনি প্রভুকে দেখেছেন আর প্রভুই তাঁকে এই সব কথা বলেছেন। প্রভু যীশু শিষ্যদের দেখা দিলেন। সেই একই দিনে, সপ্তার প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিষ্যেরা যিহূদী নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তখন যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” এই কথা বলে তিনি তাঁর দুই হাত ও পাঁজরের দিকটা তাঁর শিষ্যদের দেখালেন। প্রভুকে দেখতে পেয়ে শিষ্যেরা খুব আনন্দিত হলেন। পরে যীশু আবার তাঁদের বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক। পিতা যেমন আমাকে পাঠিয়েছেন আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি।” এই কথা বলে তিনি শিষ্যদের উপর ফুঁ দিয়ে বললেন, “পবিত্র আত্মাকে গ্রহণ কর। তোমরা যদি কারও পাপ ক্ষমা কর তবে তার পাপ ক্ষমা করা হবে, আর যদি কারও পাপ ক্ষমা না কর তবে তার পাপ ক্ষমা করা হবে না।” অবিশ্বাসী থোমার বিশ্বাস যীশু যখন এসেছিলেন তখন থোমা নামে সেই বারোজন শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁদের সংগে ছিলেন না। এই থোমাকে যমজ বলা হত। অন্য শিষ্যেরা পরে থোমাকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” থোমা তাঁদের বললেন, “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” এর এক সপ্তা পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাঁদের সংগে ছিলেন। যদিও সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল তবুও যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” পরে তিনি থোমাকে বললেন, “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” যীশু তাঁকে বললেন, “থোমা, তুমি কি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করছ? যারা না দেখে বিশ্বাস করে তারা ধন্য।” যীশু শিষ্যদের সামনে চিহ্ন হিসাবে আরও অনেক আশ্চর্য কাজ করেছিলেন; সেগুলো এই বইয়ে লেখা হয় নি। -(যোহন ২০:১-৩০)

ইম্মানুয়েল। জয় যীশু। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাকে এখানে বলার সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের সবাইকে সুস্থ রেখেছেন এবং তার মন্দিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমেন। আমি সিসিটিবি’তে মাস্টার্স অফ থিওলজি কোর্স করছি। আজ রবিবার, ক্যালেন্ডার মতে আজ সপ্তাহের প্রথম দিন- বিশ্রামবার, এটা যীশু খ্রিষ্টের দিন। ইশ্বরের উপাসনার দিন। এই দিনে বলা উচিত নয় আমার কাজ আছে, আমি গির্জায় যেতে পারব না। আমি যোহন লিখিত সুসমাচারের বিশ অধ্যায়ের এক, উনিশ এবং ছাব্বিশ পদ পাঠ করছি। সেখানে বলা হয়েছে; সপ্তাহের প্রথম দিনের ভোর বেলায়, অন্ধকার থাকতেই মগদলীনী মরিয়ম সেই কবরের কাছে গেলেন। তিনি দেখলেন কবরের মুখের পাথরখানা সরানো হয়েছে। সেই একই দিনে, সপ্তাহের প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় যীশু খ্রিস্টের শিষ্যরা যিহুদী নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা জানালা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। এক সপ্তাহ পরে উম্মতেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাদের সাথে ছিলেন। আমেন। সপ্তাহের প্রথমদিনকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন ইসরাইল সহ পুরো মানব সভ্যতা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, মানবজাতির সেই অন্ধকার সময়ে, মানবজাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে যীশুখ্রিষ্ট মর্ত্যের পৃথিবীতে আসলেন মুক্তির বারতা নিয়ে। আমাদের মুক্তির জন্য, মানবজাতির মুক্তির জন্য তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরন করলেন। তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরন করলেন মানব জাতিকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। যীশুখিস্টের সমসাময়িক সময়ে ইহুদী ও ফরীশিরা একহাজার পাচশচ একুশটি আইন তৈরী করেছিল যে বিশ্রামবারে এই আইনগুলি ভংগ করা যাবে না, কিন্তু যীশু খ্রিষ্ট সেই সমস্ত আইন ভাংলেন। তিনি বললেন; এই বিশ্রামবারে অসুস্থকে সুস্থ করা যাবে, মানুষের সেবা করা যাবে, অসহায়কে সাহায্য করা যাবে। যীশু খ্রিষ্ট বলেছেন; হে পরিশ্রান্ত ও ভারাক্রান্ত লোকসকল, তোমরা আমার নিকটে আস, আমিই তোমাদের বিশ্রাম দেব। মথি ছয় অধ্যায়ের তেত্রিশ পদে বলা হয়েছে; কিন্তু তোমরা প্রথমে ইশ্বরের রাজ্যের বিষয়ে ও তার ইচ্ছামত চলবার বিষয়ে ব্যাস্ত হও। তাহলে ঐ সব জিনিসও তোমরা পাবে। কালকের বিষয় চিন্তা করো না। আমেন। আমার ছোট বেলার একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল তখন আমার বয়স দশ-বার বছর হবে। উনিশো আটাশির বন্যায় সারা দেশের অনেকাং তলিয়ে গেল। আমাদের গ্রামে আমার বাবার চাষ করা দুই থেকে তিন বিঘা জমির পাকা ধানও একদিন পানির নিচে তলিয়ে গেল্ সেদিন ছিল সপ্তাহের প্রথমদিন রবিবার। প্রতিবেশীরা সবাই বলল, তাড়াতাড়ি লোকবল নিয়ে যাও, জমির ধান কেটে আন। আমার বাবা বললেন, আজ রবিবার, আমাকে মন্দিরে যীশুর ঘরে যেতে হবে। যীশু যদি আমার ধান রক্ষা করতে চান তবে সেটা রক্ষা হবে। তাছাড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়া দুই থেকে তিন বিঘা জমির ধান একদিনে কাটাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু ইশ্বরের আর্শীবাদে পরদিন জমিতে গিয়ে দেখি ধান এক বিঘত পরিমান পানির উপরে উঠে গেছে। আমেন। প্রথম করিয়ান্থিয় ষোল অধ্যায়ের দ্বিতীয় পদে বলা হয়েছে; তোমরা প্রত্যেকে তোমাদের আয় অনুসারে সপ্তাহের প্রথম দিনে কিছু তুলে জমা করে রেখ, যেন আমি আসলে চাদা তুলতে না হয়। এখানে গিজার্য় দানের বিষয়ে বলা হয়েছ্ আমরা অনেকে এক টাকা-দুই টাকা দান হিসেবে দেই। এই অভ্যেস আমাদের পরিত্যাগ করতে হবে। মথি আঠারো অধ্যায়ের আঠারো পদে বলা হয়েছে; আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তোমরা দুনিয়াতে যা বাধবে তা স্বর্গেও বেধে রাখা হবে। আর যা খুলবে তা স্বর্গেও খুলে দেওয়া হবে। আমেন। প্রকাশিত বাক্য প্রথম অধ্যায়ের নয় ও দশ পদে বলা হয়েছে; যীশু খ্রিষ্টের সংগে যুক্ত হয়ে আমি তোমাদের সংগে একই কষ্ট, একই রাজ্য এবং একই ধৈর্যের ভাগী হয়েছি। ইশ্বরের বাক্য ও যীশু খ্রিষ্টের সাক্ষি প্রচার করেছিলাম বলে আমাকে পাটম দ্বীপে রাখা হয়েছিল। প্রভুর দিন এক রবিবারে আমি বিশেষভাবে পবিত্র আত্মার বশে ছিলাম। আমেন। এই রবিবার প্রভু যীশু খ্রিষ্টের দিন। এই রবিবারেই প্রভু যীশুখ্রিষ্ট একাধিকবার তার শিষ্যদের মাঝে দেখা দিয়েছিলেন। আমেন। আমার মনে পড়ে, ছোটবেলায় যখন আমি ক্লাস টু’তে পড়ি তখন আইসক্রিম ওয়ালার সুর করে গাওয়া গানের কলি; ভাল আছি, ভাল থেকো। আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো। দাদু আমার কাছে শুনতে চাইতেন আইসক্রিম ওয়ালা সুর করে গ্রামরে মেঠো পথ ধরে কী গান গেয়ে যাচ্ছে। আমি একদিন দাদুকে শুনালাম। আমি অবাক হলাম বুড়ো দাদু এই গানে এখনো যৌবনের আবেগ খুজে পান? দাদুকে জিজ্ঞেস করতে দাদু আমাকে বলল; এই গানের মানে তুই কি বুঝবি। আমি যখন ক্ষেতের আইলে বসে হুক্কা টানি আর আইসক্রিম ওয়ালার গাওয়া গান স্মরন করি তখন ইশ্বরের ডান পার্শ্বে বসে থাকা প্রভু যীশু খ্রিষ্টের সাথে আমার এক ধরনের যোগাযোগ অনুভব করি। আমেন। জয় যীশু। সবাইকে ইম্মানুয়েল।

স্পিকার: আইজ্যাক দিপ্তী হালদার
মাস্টার্স অফ থিওলজি
খ্রিস্টান কলেজ অফ থিওলজি বাংলাদেশ (সিসিটিবি)।

## Friday

### রানা প্লাজা: সবকিছু ভেঙ্গে যায়

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগির গত বুধবার সাভারে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, দুর্ঘটনার আগে কিছু মৌলবাদী ও বিএনপির ভাড়াটে লোক সাভারের ভবনটির গেট ও বিভিন্ন স্তম্ভ ধরে নাড়াচাড়া করেছিল। ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে এটিকেও একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

-তুমি কি ভেবেছিলে বাগাম্বড় করেই এম্পায়ার গড়ে তুলবে মহিউদ্দীন?
-নেত্রী, কথা দিয়েই অতীতে অনেকে এম্পয়ার ভেঙ্গে টুকরো
টুকরো করে দিয়েছে সেই রেকর্ড ইতিহাসে আছে।
-কিন্তু তুমি ভুল পথে হেটেছ এবং ফাদে পা দিয়েছ।

ফিরে দেখা-
ইতস্তত ঘোরাঘুরির কারনে তারুনকে জেরা করল সিকিউরিটি অফিসার। তারুন একটুরো কাগজে লিখল "ইউনাইটেড এম্পায়ার অফ বাংলাদেশ" তারপর সেটি অফিসারের হাতে দিয়ে বলল; এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হাতে দিন তারপর দেখুন পাচ মিনিটের মধ্যে তিনি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবেন।
তাই-ই ঘটল। তারুন এখন বসে আসে প্রধানমন্ত্রীর কাযার্লয়ে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বললেন; তুমি আমাদের কেন সহযোগিতা করতে চাও তারুন?
তারুন বলল; একটি এম্পায়ার তৈরী হলে ভবিষ্যতে আমি আশা করি একজন রয়্যাল মিনিস্টার হব। আমি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে লেখালেখির সুবাদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে যাবার সুযোগ পেয়েছি। আমার কাছে গোপন একটি খবর আছে। আমি জানি কিভাবে সাভারের আটতলা ভবন রানা প্লাজা ধ্বসে পড়ল।
"কিভাবে?" প্রায় লাফিয়ে উঠলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তারুন বলল; দুর্ঘটনার আগে কিছু মৌলবাদী ও বিএনপির ভাড়াটে লোক সাভারের ভবনটির গেট ও স্তম্ভ ধরে নাড়াচাড়া করেছিল, ফলে ভবনটি ধ্বসে পড়ে। আমি বিএনপি অফিস থেকে এটা শুনেছি।
শেখ হাসিনা বললেন; ওর কথা আমরা কেন শুনছি মহিউদ্দীন খান? তুমি ওর কথা বিশ্বাস করো না, কি শুনতে কি শুনেছে-
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগির বললেন; আপা, আমাকে শুনতে দিন, এটা হতে পারে, বিশ্বাস করা যায়। আমিও এমনটা ভেবেছিলাম।
তারুন জোর দিয়ে বলল; আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়বরিং এর স্টুডেন্ট, আমার এনালাইসিসও বলে এটা সম্ভব।
তারপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে ফিরে বললেন; নেত্রী, এই কথাটাই আমরা ওর মুখ দিয়ে ক্যামেররার সামনে বলাবো।
তারুন বলল; অসম্ভব। তাহলে তারা আমাকে চিনে ফেলবে আর আমাকে বেইমান বলবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বললেন; তুমি খুব ভাল বলেছ। দলের হাই কমান্ডে তোমাকে ভাল পদ দেওয়া হবে। আর মনে রেখ এই তথ্য দেওয়ার জন্য তোমাকে কখনো অনুশোচনা করতে হবে না। তুমি নিশ্চিতে ফিরে যাও আর বিএনপির মাঝে মিশে থাক।
মহিউদ্দীন খান আলমগির প্রধানমন্ত্রীর দিকে ফিরে বললেন; এই কথাটাই আমরা অন্য কাউকে দিয়ে ক্যামেরার সামনে বলাতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী রাগতস্বরে বললেন; তুমিই মিডিয়া ক্যামেরার সামনে গিয়ে বল, গাধা কোথাকার।

Presentation Slides of United Empire of Bangladesh

## Monday

### বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। সবাইকে খ্রীষ্টিয় প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজকে আমি যে গুরুত্বপুর্ন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব তা হল আমাদের রাজা-রাজাধিরাজ যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দূতদের সম্মান ও অধিকার বিষয়ে। এই পার্থিব জগতের কোন দেশের রাষ্ট্র নায়কের দূতের সম্মান-প্রতিপত্তি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু রাজাধিরাজ যীশু খ্রিষ্টের দুত যারা হতে চায় তাদের অবস্থান কোথায়? একজন রাষ্ট্র নায়কের দুত হওয়া বিশাল সম্মান ও গৌরবের বিষয় কিন্তু তার চেয়ে গৌরব ও সম্মানের জাগয়া হল যীশু খ্রিষ্টের দুত হওয়া। মথি লিখিত সুসমাচারের পাচ অধ্যায়ের বিশ নম্বর পদে বলা হয়েছে; সেইজন্য আমরা যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দুত হিসেবে তার হয়ে কথা বলছি। আসলে ইশ্বর নিজেই আমাদের মধ্য দিয়ে লোকদের কাছে অনুরোধ করেছেন। তাই যীশু খ্রিষ্টের হয়ে আমরা এই মিনতি করছি, তোমরা ইশ্বরের সংগে মিলিত হও। যারা ইশ্বরের সুসংবাদ প্রচার করে তারাই যীশু খ্রিষ্টের রাজকীয় দুত। কিন্তু এই দুতদের অনেক কষ্টও ভোগ করতে হতে পারে। কারন প্রচার করা সহজ কাজ নয়। যারা প্রচার করে তারা ইশ্বরের মনোনিত দাস। প্রেরিত নয় অধ্যায়ের ষোল পদে বলা হয়েছে; আমার জন্য কত কষ্ট যে তাকে পেতে হবে আমি সেটা তাকে দেখাব। কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন যারা প্রচার করে সেই সব ব্যাক্তিরা, গির্জার প্যাস্টর, প্রিস্ট তারা যেন কষ্টে না থাকে। একজন প্যাস্টর মাস শেষে যে বেতন পায় সেই বেতন দিয়ে তার পরিবার, সন্তানদের ভরন পোষন, শিক্ষাসহ সমস্ত খরচ চালায়। সে যদি কোন দোকান থেকে বাকি করে থাকে আর মাস শেষে বাকীর টাকা পরিশোধ করতে না পারে তবে কি দোকানদার তাকে বলবে না; ওই মিয়া তুমি মিথ্যেবাদী, ঠিক মতো টাকা পরিশোধ করো না। তখন তার অন্তর ভেঙ্গে যাবে। সে ইশ্বরের কাছে অভিযোগ জানাবে; হে ইশ্বর আমি তোমার সুসংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অপমান হয়েছি, মানুষ আমাকে মিথ্যেবাদী বলছে এবং আমি সত্যিই আমার কথা রাখতে পারছি না। প্রথম তিমথীয় পাচ অধ্যায়ের আঠারো পদে বলা হয়েছে; পাক কিতাবে আছে, শস্য মাড়াই করবার সময় বলদের মুখে জালতি বেধ না। আরো লেখা আছে, যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। বাইবেলের আরো বেশ কয়েকবার এই কথা বলা হয়েছে। মথি দশ অধ্যায়ের দশ পদে বলা হয়েছে, যে কাজ করে সে খাওয়া-পরা পাবার যোগ্য। লুক দশ অধ্যায়ের পাচ পদে বলা হয়েছে, তোমরা যে বাড়ীতে যাবে প্রথবে বলবে, এই বাড়ীতে শান্তি হোক। লুক দশ অধ্যায়ের সাত পদে বলা হয়েছে, কারন যে কাজ করে সে বেতন পাবার যোগ্য। এভাবে অসংখ্যবার স্মরন করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম করিন্থিয়ান নয় অধ্যায়ের নয় পদে বলা হয়েছে, শস্য মাড়াই করবার সময়ে বদলের মুখে জালতি বেধ না। প্রথম করিন্থিয়ান নয় অধ্যায়ের দশ পদে বলা হয়েছে, কারন যে চাষ করে এবং শস্য মাড়াই করে, ফসলের ভাগ পাবার আশা নিয়েই তা করা উচিত। আরো বলা হয়েছে তুমি যদি কারো বাড়ীতে পাওনা আদায়ের জন্য যাও তবে সেই বাড়িতে তোমার পায়ের ধুলা রেখে এসো কারন শেষ বিচারের দিনে এই ধুলা তোমার হয়ে সাক্ষ্য দেবে। লেবীয় উনিশ অধ্যায়ের তের পদে বলা হয়েছে, মজুরের দিনের পাওনা দিনেই দিয়ে দিতে হবে, তা সকাল অব্দি আটকে রাখা চলবে না। সুতরাং আমাদের সকলের বিশেষ করে গির্জার মন্ডলী যারা আছেন তাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন, প্যাস্টর, সেবাকারীগন অর্থ কষ্টে না ভোগেন। তারা তাদের মনের অজান্তেও কখনো যেন ইশ্বরের কাছে নালিশ না করে যে, হে প্রভু, আমি তোমার রাজ্যের জন্য কাজ করেছি অথচ আমি আহার হতে বঞ্চিত হয়েছি, আমি নিদ্রা হতে বঞ্চিত হয়েছি, আমি মানুষের কাছে অপমানিত হয়েছি আর মিথ্যেবাদী বলে প্রতিপন্ন হয়েছি, আমাকে ক্ষমা করো আমি আর তোমার রাজ্যের জন্য কাজ করতে পারছি না। প্রথম করিয়ন্থি নয় অধ্যায়ের তের পদে বলা হয়েছে, তোমরা কি জান, যারা বায়তুল মোকাদ্দসে কাজকর্ম করে তারা বায়তুল মোকাদ্দস থেকেই খাবার পায়। আর যারা কোরবানগাহে কাজ করে তারা কোরবানগাহে যা কোরবানী করা হয় সেখান থেকে ভাগ পায়। প্রথম করিয়ন্থি নয় অধ্যায়ের ষোল ও সতের পদে বলা হয়েছে, আমি সুসংবাদ প্রচার করছি বটে, কিন্তু তাতে আমার গৌরব করার কিছু নেই, কারন আমাকে তা করতেই হবে। দুর্ভাগ্য আমার আমি যদি সেই সুসংবাদ প্রচার না করি। যদি আমি নিজের ইচ্ছায় প্রচার করি তবে তো আমার পুরস্কার আছেই আর যদি নিজের ইচ্ছায় প্রচার না-ও করে থাকি তবুও আমার উপরে সেই ভাগ রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা যারা প্যাস্টর ও সিসিটিবিতে মাস্টার্স অফ থিওলজি কোর্স করছি, প্রথম দিকে আমরা খুব কষ্ট করেছিলাম কিন্তু এখন আমাদের সেই কষ্ট নেই আমাদের সব প্যাস্টরদেরকে প্রচার কাজের সুবিদার জন্য একটি করে মোটরসাইকেল দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের প্রচুর ফান্ড এসেছে, প্রচুর টাকা খরচ করা হয় আমাদের পিছনে কিন্তু আমি বলেছি, এতো টাকা আমাদের দিতে হবে না, এতো টাকা আমাদের প্রয়োজন নেই। কিন্তু প্রায়শই টাকার জন্যই অনেকে ঠিকমত প্রচার কাজ করতে পারে না। প্রকাশিত বাক্য তিন অধ্যায়ের পাচ পদে বলা হয়েছে, যে জয়ী হবে সে এই রকম সাদা পোশাক পরবে। জীবন-কিতাব হতে তার নাম আমি কখনো মুছে ফেলব না, বরং পিতা ও তার ফেরেশতাদের সামনে আমি তাকে স্বীকার করব। ইশ্বর আমাদের সবাইকে মনে এবং শরীরে প্রচার করার ইচ্ছা ও শক্তি প্রদান করুক সেই প্রাথর্না করি। ইশ্বরের শান্তি আপনাদের উপরে বর্ষিত হোক।
সবাইকে ইম্মানুয়েল।

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং
স্পিকার: রেভারেন্ড রোনাল্ড দিলীপ সরকার
প্যাস্টোরাল সুপারিনটেনডেন্ট
গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ।
মাস্টার্স অফ থিওলজি, সিসিটিবি

### বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (১৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং)

কিন্তু তুমি যা শিখেছ এবং নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছ তাতে স্থির থাক, কারন কাদের কাছ থেকে তুমি সেগুলো শিখেছ তা তো তুমি জান। ছেলেবেলা থেকে তুমি পবিত্র কিতাব থেকে শিক্ষা লাভ করেছ। আর এই পাক-কিতাবই তোমাকে যীশু খ্রিস্টের উপর বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে নাজাত পাবার জ্ঞান দিতে পারে। পবিত্র শাস্থের প্রতিটি কথা ইশ্বরের কাছ থেকে এসেছে এবং তা শিক্ষা, চেতনা দান সংশোধন এবং সৎ জীবনে গড়ে উঠবার জন্য দরকারী, যাতে ইশ্বরের দাস সম্পুর্নভাবে উপযুক্ত হয়ে ভাল কাজ করবার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। (২ তীমথিয় ৩: ১৪-১৭)

সবাইকে খ্রীস্টিয় শুভেচ্ছা। আজ বাংলা নববর্ষ তাই গীর্জা ঘরে যুবক-তরুন-তরুনীদের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে তবুও গীর্জা প্রায় পরিপুর্ন হয়ে গেছে। আমি প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে গান করবার সময় আমি কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম। এটা আমার ঔদ্যত্ত নয়, বয়স বেশি হয় নি তবুও মাঝে মাঝে নিজের অজান্তে গভীর ভাবনায় তলিয়ে যাই। আমি প্রফেশনাল লেকচারার নই, ভাল প্রচার করতেও পারি না কিন্তু ইশ্বরের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলকে আমি আমার জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে সবর্দা সতেষ্ট। আজ পশ্চিমা বিশ্ব- আমেরিকা, ইউরোপ, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মানুষরা বাইবেলের শিক্ষা থেকে অনেক দুরে সরে এসেছে। কিছুদিন আগে ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার মারা গেলেন, তাকে লৌহ মানবী বলা হয়; তিনি বলেছিলেন; ব্রিটেন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাইবেলের ভিত্তিতে। পলিটিক্যাল ইনফ্রাকশ্চার একটি দেশের জন্য যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বাইবেলের শিক্ষা। জর্জ ওয়াশিংটন যে আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার পিছনে ছিল বাইবেলীয় শক্তি। জর্জ ওয়াশিংটন মিকাহ চার অধ্যায়ের চার পদের উপর ভিত্তি করে আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; প্রত্যেকে নিজের নিজের আংগুর লতা ও ডুমুর গাছের নীচে বসবে এবং কেউ তাদের ভয় দেখাবে না, কারন স্বয়ং ইশ্বর সেই কথা বলেছেন। আমেরিকার যে মুদ্রা, ডলারের উপরে লেকা আছে; ইউ ট্রাষ্ট ইন গড কিন্তু আজকে আমেরিকার বিশ পার্সেন্ট মানুষ গিজার্য় যায়, ইউরোপে পাচ পাসের্ন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ায় পনের পাসের্ন্ট। আমেরিকায় প্রায় প্রতিটি রাস্তায় রাস্তায়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাথিড্রাল দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু সেখানের অনেকগুলিতেই উপাসনা হয় না, খালি পড়ে আছে। মানুষ যায় দর্শনার্থী হিসেবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাথিড্রাল দেখতে পাওয়া যায় এর কারন কি? কারন প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ স্থাপন করেছিলেন প্যাস্টর, প্রিস্ট আর খ্রীস্টিয় সাধু-পন্ডিতরা। পৃথিবীর আজকের বিজ্ঞান কাদের হাত ধরে এসেছে? এই খ্রিষ্টানদের হাত ধরে। বিজ্ঞান সাহিত্য। কিন্তু আজকের বিশ্ববিদ্যালগুলির ছাত্র-ছাত্রীরা কেন গীর্জায় যায় না কারন সেখানে আজ কিছু পন্ডিতদের আগমন ঘটেছে তারা দেখল বাইবেলীয় শিক্ষা অনুসারে চলতে গেলে ইচ্ছামত যা খুশী করা যায় না তাই তারা দাবী করল- স্বাধীনতা, যা খুশি করার স্বাধীনতা আর বলা হল বাইবেল পুরোনো শিক্ষা। যার ফলে ওইসব সমাজ গুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিশৃঙ্খলা আর অশান্তি। পরিবারে শান্তি নেই, বিয়ের কিছুদিন পরই অনেক দম্পতির ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে, সমকামী বিয়ে হচ্ছে। কারন তাদের মধ্যে যীশু খ্রিস্টের শিক্ষা নেই। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে মুসলমানরা। আমি একবার ফ্রান্সে গিয়েছিলাম সেখানে অনেক উচু পাহাড়ের উপরে একটা গির্জা নিমার্ন করা হয়েছে, খুব আকষর্নীয় বটে কিন্তু দু:খের বিষয় সেই গির্জায় প্রাথর্না হয় না তবে একটা জিনিস ভাল লেগেছিল, সেখানে প্রাথর্না না হলেও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দর্শনার্থী হয়ে সেখানে যায়। পাহাড়ের উপরে যীশুখ্রিস্টের বিশাল এক ছবি সাটানো হয়েছে যেন তার শরীর দিয়ে সাদা আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে ঠিক যেন মেঘের রথে করে তার দ্বিতীয় আগমনের মত। অনেকে সেখানে মোম জ্বালিয়ে ইশ্বরের কাছে ধন্যবাদ জানায়, প্রাথর্না করে। আমিও মোমবাতি কিনে জ্বালিয়ে কিছুক্ষন প্রার্থনা করলাম, ইশ্বরকে ধন্যবাদ দিলাম। আমি প্রায়ই আমেরিকা, ইউরোপ ভ্রমনে যাই, এছাড়াও বহুদেশ আমি ভ্রমন করেছি। একবার বিখ্যাত একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু মুসলমান ছাত্র-ছাত্রী আমাকে বলল; ক্যান উই গিভ ইউ এ ফ্রি কপি অফ কোরান? আমি বললাম; ধন্যবাদ, অলরেডী ওটা আমার কাছে এক কপি আছে, আমি অনুবাদসহ পড়েছি। চীনে যখন কমিউনিজম আসল তখন সমস্ত গির্জা বন্ধ করে দেওয়া হল, প্রিস্টদের মারধর করা হল। তাদের জীবন যাত্রার স্বভাবিক গতিপথ বন্ধ করে দেওয়া হল। অনেককে মেরেও ফেলা হল। খ্রিস্টধর্ম উৎখাতের সব রকম চেষ্টা করা হয়েছিল চীন ও রাশিয়ায়। চীনে যখন কমিউনিজম আসে তখন চীনে খ্রিষ্টান বিশ্বাসীর সংখ্যা ছিল এক লাখ এর মত, আর পঞ্চাশ বছর পরে যখন সেই গোড়া কমিউনিজম চলে গেল- আজকে চীনে খ্রিষ্টান বিশ্বাসীর সংখ্যা এক কোটির বেশী। এই প্রচার বন্ধ হবার নয় কারন এটা ইশ্বরের বানী, এটা সত্য। মুসলমানরা বলে বেড়ায়; খ্রিস্টানরা তাদের সুবিধা মত বাইবেল পরিবর্তন করেছে। কি যায় আসে তাদের কথায়? আমরা জানি এটা সত্য এবং ইশ্বরের বাক্য অপরিবর্তনীয়। সুতরাং অত্যাচার-নিযার্তন আর কুৎসা রটনায় কখনো যীশু খ্রিস্টের প্রচার থেমে থাকে নি বরঞ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। যারা প্রিস্ট, প্যাসটর আছেন তারা তাদের লেকচারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুন ছাত্র-ছাত্রীদের মুগ্ধ করতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে; তোমরা এমবিএ, মাস্টার্স, পিএইচডি করেছ তাতে কি? আমরাও কম জানি না। তারা যেন বুঝতে পারে এখানেও শেখার কিছু আছে। আজকের শিক্ষিত তরুন-তরুনীরা গির্জায় আসতে চায় না। তারা যেন জানার আগ্রহ নিয়ে গীর্জায় আসে সেভাবে নিজেদের তৈরী করতে হবে। শুধু প্রচারের জন্য প্রচার নয়। সত্যিকারে ইশ্বরের রাজ্যের জন্য কাজ করতে হবে। আমাদের প্রয়োজন নহিরমিয়ার মতো লিডার। যে নহিরমিয়া শহরের ধ্বংসস্থুপ দেখে কাদলেন। তিনি ইশ্বরের কাছে প্রাথর্না করলেন; হে ইশ্বর আমাকে বাদশার সামনে যাবার শক্তি দাও, বাদশার মন নরম করে দাও সে যেন আমার কথা, আমার পরিকল্পনাগুলি শ্রবণ করে এবং সেইমত কাজ করে। রোমীয় বারো অধ্যায়ের এক এবং দুই পদে বলা হয়েছে; তাহলে ভাইয়েরা, ইশ্বরের এই সব দয়ার জন্যই আমি তোমাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করছি, তোমরা তোমাদের শরীরকে জীবিত, পবিত্র ও ইশ্বরের গ্রহনযোগ্য কোরবানী হিসাবে ইশ্বরের হাতে তুলে দাও। সেটাই হবে তোমাদের উপযুক্ত এবাদত। এখানকার খারাপ দুনিয়ার চালচলনের মধ্যে তোমরা নিজেদের ডুবিয়ে দিও না, বরং ইশ্বরকে তোমাদের মনকে  নতুন করে গড়ে তুলতে দিয়ে সম্পুর্ন নতুন হয়ে ওঠো, যেন তোমরা ইশ্বরের ইচ্ছা জানতে পার। ইশ্বরের ইচ্ছা ভাল, সম্পুর্ন নিভুর্ল এবং তাতে ইশ্বর সন্তুষ্ট হন।

আমিন।

হে আমাদের স্বগীর্য় পিতা,

তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক।

তোমার রাজ্য আসুক।

তোমার ইচ্ছা যেমন বেহেশতে

তেমনি দুনিয়াতেও পুর্ন হোক।

যে খাবার আমাদের দরকার

তা আজ আমাদের দাও।

যারা আমাদের উপর অন্যায় করে,

আমরা যেমন তাদের মাফ করেছি

তেমনি তুমিও আমাদের সমস্ত অন্যায় মাফ কর।

আমাদের তুমি পরীক্ষায় পড়তে দিয়ো না,

বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর।

আমিন।

(মুনাজাতঃ মথি ৬:৯-১৩)

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (Pearls of Wisdom)

১৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং

লেকচারার: প্রদীপ দাওয়া

কান্ট্রি ডিরেক্টর, ওয়ার্ল্ড কনসার্ন

মেম্বার, খ্রিস্টান ফেলোশিপ সোসাইটি

Again, the kingdom of heaven is like unto a merchant man, seeking goodly pearls: Who, when he had found one pearl of great price, went and sold all that he had, and bought it. — Matthew 13:45-46

## Sunday

### বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার (৭ এপ্রিল ২০১৩)

সবাইকে ইম্মানুয়েল। ইশ্বরকে অসংখ্য ধন্যবাদ যে তিনি আমাদের সুরক্ষিত রেখে আমাদের জীবন পরিচালনার শক্তি ও সাহস দিয়েছেন। গত রবিবার ছিল ইস্টার সানডে- যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থান দিবস, এই দিনে যীশু খ্রিস্ট মৃত্যুর তিন দিনের দিন জীবত হয়ে উঠে তার শিষ্যদের মাঝে সাক্ষাৎ করেছিলেন। যোহন বিশ অধ্যায়ের চব্বিশ থেকে উনত্রিশ পদে যীশু খ্রিস্টের মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার বিষয়ে প্রমান পাওয়া যায়। যীশু খ্রিস্টের অন্যতম একজন শিষ্য থোমা (থমাস) এর জীবন ও কর্ম আলোকপাত করে যীশু খ্রিস্টের পুনুরুত্থান বিষয়ে আরো অকাট্য প্রমান পাওয়া যায়, যদিও যীশু খ্রিস্টের পুনুরুত্থান বিশ্বাসের অংশ। আমি যোহন বিশ অধ্যায়ের চব্বিশ থেকে উনত্রিশ পদ পাঠ করছি; যীশু যখন এসেছিলেন তখন থোমা নামে সেই বারোজন শিষ্যদের মধ্যে একজন তাঁদের সংগে ছিলেন না। এই থোমাকে যমজ বলা হত। অন্য শিষ্যেরা পরে থোমাকে বললেন, “আমরা প্রভুকে দেখেছি।” থোমা তাঁদের বললেন, “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” এর এক সপ্তা পরে শিষ্যেরা আবার ঘরের মধ্যে মিলিত হলেন, আর থোমাও তাঁদের সংগে ছিলেন। যদিও সমস্ত দরজা বন্ধ ছিল তবুও যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” পরে তিনি থোমাকে বললেন, “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” যীশু তাঁকে বললেন, “থোমা, তুমি কি আমাকে দেখেছ বলে বিশ্বাস করছ? যারা না দেখে বিশ্বাস করে তারা ধন্য।” এখানে থোমার চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি ফুটে উঠেছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায় থোমা ছিল অন্য শিষ্যদের চেয়ে ভিন্ন। সে যুক্তি, প্রমান ছাড়া কোন কিছু বিশ্বাস করতে চাইত না। তাই থোমার অন্য সংগীরা যখন থোমাকে জানাল তারা যীশু খ্রিষ্টকে দেখেছে তখন থোমা সেটা বিশ্বাস করতে চাইছিল না। সে বলল; “আমি তাঁর দুই হাতে যদি পেরেকের চিহ্ন না দেখি, সেই চিহ্নের মধ্যে আংগুল না দিই এবং তাঁর পাঁজরে হাত না দিই, তবে কোনমতেই আমি বিশ্বাস করব না।” কিন্তু এর এক সপ্তাহ পরে যীশু খ্রিষ্ট আবার ভক্তদের মাঝে দেখা দিলেন যেখানে থোমাও ছিল। থোমার মধ্য দিয়ে যীশু খ্রিস্ট তার পুনরুত্থানের বিষয়ে নিজেকে আবার প্রকাশ করলেন কারন তিনি জানতেন সব যুগেই এমন কিছু বিশ্বাসী থাকবে যারা বিশ্বাসের পাশাপাশি যুক্তি প্রমান খুজবে। যীশু খ্রিস্ট এই অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত ও প্রমান রেখে গিয়েছেন। যোহন বিশ অধ্যায়ের উনিশ পদে দেখা যায়; সেই একই দিনে, সপ্তার প্রথম দিনের সন্ধ্যাবেলায় শিষ্যেরা ইহুদি নেতাদের ভয়ে ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে এক জায়গায় মিলিত হয়েছিলেন। তখন যীশু এসে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “তোমাদের শান্তি হোক।” যীশু খ্রিস্ট তাদের মাঝখানে এসে দাড়ালেন। এভাবেই যীশু খ্রিস্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবার মধ্যমনি হয়ে রইলেন, সুতরাং আমারাও যদি যীশু খ্রিস্টকে সবকিছুর মধ্যে রাখি, আমাদের অন্তরে বিশ্বাসের সাথে স্থান দেই তবে আমরা মুক্তি পাব কারন একমাত্র যীশু খ্রিস্টই আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। থোমা যে যীশু খ্রিস্টকে অল্প ভালবাসত তা নয়। মার্ক আট অধ্যায়ের একত্রিশ পদে দেখা যায়; পরে যীশু তাঁর শিষ্যদের এই বলে শিক্ষা দিতে লাগলেন যে, মনুষ্যপুত্রকে অনেক দুঃখভোগ করতে হবে। বৃদ্ধ নেতারা, প্রধান পুরোহিতেরা এবং ধর্ম-শিক্ষকেরা তাঁকে অগ্রাহ্য করবেন। তাঁকে মেরে ফেলা হবে এবং তিন দিন পরে তাঁকে মৃত্যু থেকে আবার জীবিত হয়ে উঠতে হবে। এবং যোহন এগারো অধ্যায়ের ষোল পদে দেখা যায়; তখন থোমা, যাঁকে যমজ বলা হয়, তাঁর সংগী-শিষ্যদের বললেন, “চল, আমরাও যাই, যেন তাঁর সংগে মরতে পারি।” কিন্তু থোমার চরিত্রের একটি দিক ছিল যুক্তি প্রমানের মধ্য দিয়ে তার বিশ্বাসের দৃঢ়তা স্থাপন করা।  যীশু খ্রিস্ট মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠবার পরে যখন শিষ্যদের মাঝে দেখা দিলেন যেখানে থোমাও ছিল এবং থোমাকে বললেন; “তোমার আংগুল এখানে দিয়ে আমার হাত দু’খানা দেখ এবং তোমার হাত বাড়িয়ে আমার পাঁজরে রাখ। অবিশ্বাস কোরো না বরং বিশ্বাস কর।” তখন থোমা বললেন, “প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার।” এর মধ্য দিয়েই বোঝা যায় যীশু খ্রিস্টের প্রতি থোমার অগাধ ভালবাসা। ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই যীশু খ্রিস্ট থোমাকে ভারত বর্ষে তার সুসংবাদ প্রচার করার জন্য নিয়োজিত করেছিলেন কিন্তু প্রথম দিকে থোমা ভারত বর্ষে আসতে ইতস্তত করছিলেন, পরে তিনি হিপ্পানি নামে একজন বনিকের সাথে ভারত বর্ষে আসলেন এবং আমৃত্যু ইশ্বরের বানী প্রচারের জন্য অনেক সংগ্রাম করে গেছেন, অত্যাচার সয়েছেন, ততকালীন হিন্দু অধ্যুষিত ভারত বর্ষে বহুবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবং শেষ পর্যন্ত তাকেও বর্শার আঘাতে মেরে ফেলা হয়েছিল। প্রথম দিকে থোমা ইশ্বরের কাজে নিজেকে নিয়োজিক করতে ইতস্তত করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকাশিত বাক্য এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের দশ পদকেই ধরে রেখেছিলেন যেমনটা যীশু খ্রিস্ট নিজেই প্রকাশ করেছিলেন; তুমি যে সব কষ্ট ভোগ করতে যাচ্ছ তাতে মোটেই ভয় পেয়ো না। শোন, শয়তান তোমাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরীক্ষা করবার জন্য জেলে দেবে, আর দশ দিন ধরে তোমরা কষ্ট ভোগ করবে। তুমি মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বস্ত থেকো, তাহলে জয়ের মালা হিসাবে আমি তোমাকে জীবন দেব। আসুন আমরা অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে যেন যীশু খ্রিস্টের দেওয়া জীবন ব্যবস্থা থেকে দুরে সরে না যাই। কারন যীশু খ্রিস্টের মধ্যদিয়ে আছে জীবন, সত্য এবং মুক্তি।
আমেন।

বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
৭ এপ্রিল ২০১৩ ইং
লেকচারার: সুশান্ত বৈরাগী
পালক, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ
সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ

## Tuesday

### গল্প: দ্যা অবজারভার

তার মাইন্ডের এত তীক্ষ্ণতা সে আগে কখনো অনুভব করে নি। তরুন প্রায় পাচ বছরেরও বেশী সময় ধরে কোরিয়ান ভদ্রলোক মি. ডাক সু লি কে চিনে, বলতে গেলে তার কৈশর যখন শেষ হয়ে গেছে তখন পরিচয় হয় দুজনের। দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। মি. লি এর বয়স প্রায় পঞ্চাশ হবে আর তরুনের চব্বিশ বছর। এল্ডার্স মি. লি তাকে বহুবার বলেছিল স্যামসন চৌধুরীর কথা। তরুন স্যামসন চৌধুরীকে কখনো দেখে নি কিন্তু তার মাইন্ড ‍অনুভব করেছিল একাধিকবার।  এল্ডার্স বয়সের প্রতিচ্ছবির শুধু সম্মানসুচক শব্দ নয় কারন বহু কমবয়সীকেও এল্ডার্স বলা হয়, তবে এল্ডার্স বোর্ডের অধিকাংশই বয়স্ক হয়ে থাকেন।
এল্ডার্স কারো পরামর্শ কিংবা কথা সে আগে কখনো এত মনোযোগ দিয়ে শুনে নি এবং গুরুত্ব সহকারে নেয় নি। তরুন বুঝতে পেরেছে যে এল্ডার্স লি এর মাইন্ডের সামনে সে এক মিনিটও দাড়াতে পারবে না।

এর আগে সে অন্য একজনকে পেয়েছিল- আরো শক্তিশালী। মি. স্যামসন এইচ চৌধুরী, বাংলাদেশী। রাস্তায় হাটতে হাটতে কারো মাইন্ডের উপস্থিতি সে টের পায়; বাধা দিও না যুবক। তোমার মাইন্ড আমাকে পরীক্ষা করতে দাও।
তরুন স্যামসন চৌধুরীর সাথে পরিচিত হল। তিনি যা করলেন তা বর্ননার অতীত, কোন বিজ্ঞান বা সাহিত্য দিয়ে তাকে বর্ননা করা যাবে না। তবে হিউম্যান মেন্টালিক মান অনুযায়ী তাকে মায়া বা ইন্দ্রজাল বলা যায়। তরুনের মস্তিস্কের অন্দরে তিনি তার মুখচ্ছবি বা অববয় ফুটিয়ে তুললেন। অনেকটা থ্রিডি ভিডিও চ্যাট করার মত।

মি. স্যামসন চৌধুরী ছিলেন একজন অবজারভার। তিনি তরুনকে বললেন; একজন অবজারভার হচ্ছে ইউনাইটেড সিস্টেমের সিকিউরিটির সেকেন্ড লেভেলের নিচু পদ। তবে অনেক অবজারভার কে আমেরিকা নিয়ে সিনেট করা হয়েছে, সে ইতিহাসও আছ। কিন্তু সেটা সংখ্যায় খুবই নগন্য কারন অবজারভারদের মাইন্ডের ক্ষমতা খুব কম থাকে। তারা শুধু পরিস্থিতি অবজার্ভ করতে পারে কিন্তু এডজাস্ট করতে পারে না। তবে একজন অবজারভার সহজেই তার সমাজের উচুস্থরের পদগুলিতে যেতে পারে। মৃত্যুর আগে একজন অবজারভার তার একজন উত্তরসুরী রেখে যেতে পারেন। ধরাপড়ার কোন সম্ভাবনা বা ভয় নেই। কারন সেভাবেই তার চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হয়। রাডার মনিটরে প্রদর্শিত বিন্দুর মত আমি তোমার উপস্থিতি, তোমার মাইন্ডের উপস্থিতি অনুভব করেছিলাম। তুমি যতদুরে যেতে আমি ট্র্যাক করতাম কিন্তু জানতাম না কে তুমি, কি তোমার পরিচয়, কারন তোমার অবস্থান থাকত আমার থেকে বহু দুরে কিংবা আমি খুবই ব্যস্ত থাকতাম। তোমাকে রিক্রুট করা হয়েছে কিনা আমি জানি না, তবে আমাকে রিক্রুট করা হয়েছিল শিশু বয়সেই।
তরুন বলল; আমি জানি না কেউ আমাকে রিক্রুট করেছে কিনা তবে, প্রায়শই আমি আমার মাইন্ডের এই বিশেষ ক্ষমতা ও এর তীক্ষ্ণতা অনুভব করতাম।
অবজারভারদের মধ্যে সাধারনত যোগাযোগ হয় না, অবজারভাররা যোগাযোগ করে সরাসরি উপরস্থ লেভেলের সাথে। নিজেদের মধ্যে কেউ কাউকে চিনে না এবং যোগাযোগও হয় না, শুধু মাত্র উত্তরসুরী নিবাচর্নের ক্ষেত্রে একজন অবজারভার শিশু-কিশোর করোএকজনের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। যখন তুমি অবজারভার হবে তখন বুঝতে পারবে কিভাবে উপরস্থ লেভেলের সাথে যোগাযোগ করতে হয়। বলতে লাগলেন স্যামসন চৌধুরী।

## Monday

### বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার [২৪ মার্চ ২০১৩]

সবাইকে ইম্মানুয়েল। আজ পাম সানডে, বিশেষ একটি দিন। আমি দেখতে পাচ্ছি আজ গির্জা ঘর পরিপুর্ন হয়ে গেছে। আমি দেখতে পাচ্ছি সানডে স্কুলের কিছু বাচ্চারাও এসেছেসবাইকে খ্রিস্ট্রিয় শুভেচ্ছা। ইশ্বরকে ধন্যবাদ আজ পর্যন্ত তিনি আমাদের সুস্থ রেখেছেন এবং এখানে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্মরন করছি আমাদের সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে। গতকাল টর্নেডো ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ গুলি দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠুক। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারী আজকের দিনের মতই একটি বিশেষ দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরলেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানাল। লূক লিখিত সুসংবাদের ১৯ অধ্যায়ের ২৮ থেকে ৪৮ পদে আমরা দেখতে পা আজকের দিনে আমাদের রাজা যিশু ্রিষ্টও তার প্রিয় শহর জেরুজালেমে আসলেন অগনিত জনতা হোশান্না ধ্বনিতে তাকে স্বাগত জানাল। তাকে বহন করে নিয়ে যাবার জন্য একটি গাধার বাচ্চা নে দেওয়া হল এবং রমনীরা তার পথে নিজেদের চাদর বিছিয়ে দিচ্ছিল। এইভাবে যীশু যিরূজালেমের কাছে এসে যে রাস্তাটা জৈতুন পাহাড় থেকে নেমে গেছে সেই রাস্তায় আসলেন। যীশুর সংগে তাঁর অনেক শিষ্য ছিলেন। সেই শিষ্যেরা তাঁর যে সব আশ্চর্য কাজ দেখেছিলেন সেগুলোর জন্য আনন্দে চিৎকার করে ঈশ্বরের গৌরব করে বলতে লাগলেন, “প্রভুর নামে যে রাজা আসছেন তাঁর গৌরব হোক! স্বর্গেই শান্তি, আর সেখানে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশিত।” ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরীশী যীশুকে বললেন, “গুরু, আপনার শিষ্যদের চুপ করতে বলুন।” যীশু তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের বলছি, এরা যদি চুপ করে থাকে তবে পাথরগুলো চেঁচিয়ে উঠবে।” তাঁরা যখন যিরূজালেমের কাছে আসলেন তখন যীশু শহরটা দেখে কাঁদলেন। তিনি বললেন, “হায়, শান্তি পাবার জন্য যা দরকার, তুমি, হ্যাঁ তুমি যদি আজ তা বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার চোখের আড়ালে রয়েছে। এমন সময় তোমার আসবে যখন শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে বাধার দেয়াল তুলবে এবং তোমাকে ঘিরে রাখবে ও সমস্ত দিক থেকে তোমাকে চেপে ধরবে। তারা তোমাকে ও তোমার ভিতরের সমস্ত লোকদের ধরে মাটিতে আছাড় মারবে এবং একটা পাথরের উপরে আর একটা পাথর রাখবে না, কারণ ঈশ্বর যে সময়ে তোমার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন সেই সময়টা তুমি চিনে নাও নি।” এর পরে যীশু উপাসনা-ঘরে ঢুকে ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে দিলেন। তিনি সেই ব্যবসায়ীদের বললেন, “পবিত্র শাস্ত্রে লেখা আছে, ‘আমার ঘর প্রার্থনার ঘর হবে,’ কিন্তু তোমরা তা ডাকাতের আড্ডাখানা করে তুলেছ।” যীশু প্রত্যেক দিনই উপাসনা-ঘরে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। প্রধান পুরোহিতেরা, ধর্ম-শিক্ষকেরা এবং লোকদের নেতারা তাঁকে মেরে ফেলতে চাইলেন, কিন্তু কিভাবে তা করবেন তার কোন উপায় তাঁরা খুঁজে পেলেন না, কারণ লোকেরা মন দিয়ে তাঁর প্রত্যেকটি কথা শুনত। যিশু দেখলেন মানুষ উপাসনার ঘরকে ব্যবসার আস্তানা বানিয়েছে। তিনি জেরুজালেম শহর দেকে কাদলেন যে শহর স্থাপন করেছিলেন যিশু খ্রিস্টের মাতামহের দিক থেকে পুর্বপুরুষ দাউদ রাজা। যিশু খ্রিস্ট জেরুজালেমে আসলেন এবং কাদলেন। তিনি জানতেন ইশ্বর কর্তৃক নিয়োজিত কাজে তার দায়িত্ব প্রায় শেষের দিকে। অগনিত জনতা তাকে দেখতে পেয়ে হোশান্না ধ্বনিতে জেরুজালেমের আকাশ বাতাস মুখরিত করছে কিন্তু কিছুদিন পরে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে, লোকজন বলবে একে [যিশু] ক্রুশে দাও, কে ক্রুশে দাও। যিশু জেরুজালেম শহর দেখলেন, তার োখে মুখে কান্না ফুটে উঠল এবং কাদলেন। যিশু নিজেকে কোরবানি দেবার জন্য প্রস্তুত হলেন। মানব জাতির পাপের জন্য,আমাদের পাপের জন্য, আমাদের মুক্তির জন্য প্রভু যিশু ক্রুশে জীবন দিলেন। জাগতিক ও পরৌকিক দুনিয়ার মুক্তির জন্য কোন পশু কোরবানী দেবার প্রয়োজন নেই কারন প্রভু যিশু যিনি ছিলেন জীবন্ত ইশ্বর বাক্য তিনি নিজেই কোরবানী হয়েছেন আমাদের মুক্তির জন্য। আসুন আমরা প্রভু যিশুর দেওয়া জীবন ব্যবস্থা অনুসারে আম‍াদের জীবন পরিচালিত করি।
আমেন।

এই সব কথা বলবার পরে যীশু তাঁদের আগে আগে যিরূশালেমের দিকে চললেন।
যখন তিনি জৈতুন পাহাড়ের গায়ে বৈৎফগী ও বৈথনিয়া গ্রামের কাছে আসলেন তখন তাঁর দু’জন শিষ্যকে এই বলে পাঠিয়ে দিলেন,
“তোমরা সামনের ঐ গ্রামে যাও। সেখানে ঢুকবার সময় দেখতে পাবে একটা গাধার বাচ্চা বাঁধা আছে। ওর উপরে কেউ কখনও চড়ে নি। ওটা খুলে এখানে নিয়ে এস।
যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, ‘কেন ওটা খুলছ?’ তবে বোলো, ‘প্রভুর দরকার আছে।’”
যে শিষ্যদের পাঠানো হয়েছিল তাঁরা গিয়ে যীশুর কথামতই সব কিছু দেখতে পেলেন।
তাঁরা যখন সেই বাচ্চাটা খুলছিলেন তখন মালিকেরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করল, “তোমরা বাচ্চাটা খুলছ কেন?”
তাঁরা বললেন, “প্রভুর দরকার আছে।”
তারপর শিষ্যেরা সেই গাধার বাচ্চাটা যীশুর কাছে আনলেন এবং তার উপরে তাঁদের গায়ের চাদর পেতে দিয়ে যীশুকে বসালেন।
তিনি যখন যাচ্ছিলেন তখন লোকেরা নিজেদের গায়ের চাদর পথে বিছিয়ে দিতে লাগল।
এইভাবে যীশু যিরূশালেমের কাছে এসে যে রাস্তাটা জৈতুন পাহাড় থেকে নেমে গেছে সেই রাস্তায় আসলেন। যীশুর সংগে তাঁর অনেক শিষ্য ছিলেন। সেই শিষ্যেরা তাঁর যে সব আশ্চর্য কাজ দেখেছিলেন সেগুলোর জন্য আনন্দে চিৎকার করে ঈশ্বরের গৌরব করে বলতে লাগলেন,
“প্রভুর নামে যে রাজা আসছেন তাঁর গৌরব হোক! স্বর্গেই শান্তি, আর সেখানে ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশিত।”
ভিড়ের মধ্য থেকে কয়েকজন ফরীশী যীশুকে বললেন, “গুরু, আপনার শিষ্যদের চুপ করতে বলুন।”
যীশু তাঁদের বললেন, “আমি আপনাদের বলছি, এরা যদি চুপ করে থাকে তবে পাথরগুলো চেঁচিয়ে উঠবে।”
তাঁরা যখন যিরূশালেমের কাছে আসলেন তখন যীশু শহরটা দেখে কাঁদলেন।
তিনি বললেন, “হায়, শান্তি পাবার জন্য যা দরকার, তুমি, হ্যাঁ তুমি যদি আজ তা বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার চোখের আড়ালে রয়েছে।
এমন সময় তোমার আসবে যখন শত্রুরা তোমার বিরুদ্ধে বাধার দেয়াল তুলবে এবং তোমাকে ঘিরে রাখবে ও সমস্ত দিক থেকে তোমাকে চেপে ধরবে।
তারা তোমাকে ও তোমার ভিতরের সমস্ত লোকদের ধরে মাটিতে আছাড় মারবে এবং একটা পাথরের উপরে আর একটা পাথর রাখবে না, কারণ ঈশ্বর যে সময়ে তোমার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন সেই সময়টা তুমি চিনে নাও নি।”
এর পরে যীশু উপাসনা-ঘরে ঢুকে ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে দিলেন।
তিনি সেই ব্যবসায়ীদের বললেন, “পবিত্র শাস্ত্রে লেখা আছে, ‘আমার ঘর প্রার্থনার ঘর হবে,’ কিন্তু তোমরা তা ডাকাতের আড্ডাখানা করে তুলেছ।”
যীশু প্রত্যেক দিনই উপাসনা-ঘরে গিয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন। প্রধান পুরোহিতেরা, ধর্ম-শিক্ষকেরা এবং লোকদের নেতারা তাঁকে মেরে ফেলতে চাইলেন,
কিন্তু কিভাবে তা করবেন তার কোন উপায় তাঁরা খুঁজে পেলেন না, কারণ লোকেরা মন দিয়ে তাঁর প্রত্যেকটি কথা শুনত।

[লূক ১৯:২৮-৪৮]
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সানডে লেকচার
২৪ মার্চ ২০১৩
স্পিকার: রেভারেন্ড জেমস অজিত কর্মকার
পরিচালক
বাংলাদেশ ব্যাপ্টিস্ট চার্চ

### আমার বন্ধু এলেক্স এক্সটেনশন ফেইজ ২: দ্যা গোমেজ

ম্যাডাম, আপনার নামটা কি জানতে পারি? আমি জিজ্ঞেস করলাম তাকে। তিনি প্রফেশনাল ইয়াংলেডী,  কাজ করেন ঢাকাস্থ আমেরিকান এম্বেসীতে-সিকিউরিটি অফিসার এলেক্স (পুরো নাম আলেক্সান্ডার) এর সাথে, এলেক্স এর সহকর্মী। তার চেহারার বনর্না হচ্ছে; দেখতে কিছুটা কালো কিন্তু শরীর শ্যামলা বর্নের। বিউটি পার্লারে যান তিনি না, দামি কোন মেকআপও ব্যবহার করেন না- করলে আরো সুন্দর লাগতো। লম্বায় পাচ ফুট দুই ইঞ্চি বা কিছুটা কম বেশী হবেন। চলাফেরা এবং জীবন যাত্রা যথেষ্ট সাধারন।

এই নিয়ে তার সাথে দুবার দেখা হল।

ম্যাডাম, আপনার নামটা কি জানতে পারি?  জিজ্ঞেস করলাম।
গোমেজ। আমার নাম গোমেজ।
আমি মনে মনে মার্কিন গায়িকা সেলিনা গোমেজের চেহারার সাথে তার চেহারার সাদৃশ্য খুজতে লাগলাম। নাক এবং চোখে কিছুটা সাদৃশ্য ধরা পড়ল। তিনি ভাল গাইতে পারেন কিনা আমি জানার চেষ্টা করি নি।
আমি এসেছি এলেক্সের সাথে দেখা করতে, আমার বন্ধু এলেক্স।
হ্যা, বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আজতো তিনি খুবই ব্যাস্ত। এই মুহুর্তে একটি জরুরী মিটিংএ আছেন তিনি। গত কিছু দিনে এলেক্স এতো পারিমানে ব্যস্ত ছিলেন যে আপনার কাজটুকু তিনি করতে পারেন নি। তবে তিনি এখন আপনার কাজটি করছেন এবং এক সপ্তাহ সময় লাগবে। আপনী কেন হরতালের মধ্যে কষ্ট করে রিস্ক নিয়ে এসেছেন, হাতাশি? গোমেজ বললেন।
আমি আফিসে যাবার জন্য বের হয়েছিলাম তো তাই ভাবলাম এলেক্সের সাথে দেখা করে যাই। আমি উত্তর দিলাম।
কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমি এসেছিলাম এলেক্সের সাথে দেখা করতে এবং তারপর অফিসের দিকে যাবো যদি সময় থাকে।

আচ্ছা, আমার বন্ধু এলেক্স কি এই এম্বেসীর জনপ্রিয় এক কর্মকর্তা?
হ্যা। নি:সন্দেহে। উত্তর দিলেন গোমেজ।
কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভপর হলো? আবার জানতে চাইলাম। সে কিভাবে নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলতে সক্ষম হল?
দেখুন, হাতাশি। আপনী আমাদের গোপন বিষয়গুলি জানতে চাইছেন। এটা অনধিকার চর্চা নয় কি?
ঠিক জানি না। তবে আমি আমার বন্ধুর ব্যাপারে জানতে চাইছি ম্যাডাম গোমেজ।

ম্যাডাম গোমেজ বলতে লাগলেন; কথিত আছে যে ফাইভ স্টার হোটেল শেরাটনের এক পার্টিতে গ্রামীন ফোনের বিপনন বিভাগের প্রধান রুবাবা-দৌলা-মতিন বাংলালিংকের একজন এজেন্টের সামনে গর্ব করে বলেছিলেন নেক্সট মানথ থেকে আমরা ওয়ান সেকেন্ড পালস সাভির্স চালু করতে যাচ্ছি।
পরের সপ্তাহে বাংলালিংক ওয়ান সেকেন্ড পালস সাভির্স চালু করে।
আর ফলাফল ছিল রুবাবা-দৌলা-মতিনকে ছাটাই করে দেয় গ্রামীন ফোন। ম্যাডাম গোমেজ বলতে লাগলেন; প্রকৃত পক্ষে একটি অফিস কিংবা কোম্পানী কিংবা যে কোন প্রতিষ্ঠান যখন তাদের কোন কর্মী বা কর্মকর্তাকে ভাল বলে, সুন্দর সুন্দর শব্দ দিয়ে সংজ্ঞায়িত করে, তার দুর্বল কথা গুলিকে শক্তিশালী করে তোলে তখন অটোমেটিকেলী একজন কর্মী বা কর্মকর্তা ভাল হয়ে ওঠে, এক্সপার্ট ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।  যেমনটা লিখা আছে পবিত্র বাইবেলে;
পাক-কিতাবে লেখা আছে, “আমি জ্ঞানীদের জ্ঞান নষ্ট করব, বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি বিফল করব।”
কিন্তু জ্ঞানী লোক কোথায়? পণ্ডিত লোকই বা কোথায়? আর যার তর্ক করবার ক্ষমতা আছে এই যুগের সেই রকম লোকই বা কোথায়? এই জগতের জ্ঞান যে কেবল মূর্খতা তা কি ঈশ্বর দেখান নি?
ঈশ্বর তাঁর নিজের জ্ঞানে স্থির করেছেন বলেই জগৎ তার নিজের জ্ঞান দিয়ে ঈশ্বরকে জানতে পারে নি। এইজন্য সুখবরের মূর্খতা দিয়ে পাপ থেকে বিশ্বাসীদের উদ্ধার করা ঈশ্বর ভাল মনে করলেন।
ঈশ্বরের মধ্যে যা মূর্খতা বলে মনে হয় তা মানুষের জ্ঞানের চেয়ে অনেক বেশী জ্ঞানপূর্ণ, আর যা দুর্বলতা বলে মনে হয় তা মানুষের শক্তির চেয়ে অনেক বেশী শক্তিপূর্ণ।
কিন্তু জগৎ যা মূর্খতা বলে মনে করে ঈশ্বর তা-ই বেছে নিয়েছেন যেন জ্ঞানীরা লজ্জা পায়। জগৎ যা দুর্বল বলে মনে করে ঈশ্বর তা-ই বেছে নিয়েছেন যেন যা শক্তিশালী তা শক্তিহীন হয়।
জগৎ যা নীচ ও তুচ্ছ বলে মনে করে, এমন কি, জগতের চোখে যা কিছুই নয় ঈশ্বর তা-ই বেছে নিয়েছেন যেন জগতের চোখে যা মূল্যবান তা মূল্যহীন হতে পারে।
তিনি ঐ সব বেছে নিয়েছেন যেন তাঁর সামনে কোন মানুষ গর্ব করতে না পারে। এইজন্য পবিত্র শাস্ত্রের কথামত, “যে গর্ব করে সে প্রভুকে নিয়েই গর্ব করুক।” *

(*১ করিন্থীয় ১:১-৩১ থেকে নেওয়া)